সোশাল মিডিয়ার দৌলতে কখন যে কী ট্রেন্ডিং হয়ে যায়, তা কে জানে! একজন একটা ভিডিও করলে পরে তা অনুকরণেরে হিড়িক পড়ে যায়। তা কতটা বিপদের তা না ভেবেই একের পর এক ক্রিয়েটর একই ভিডিও করতে শুরু করেন। তেমনই সোশাল মিডিয়া জুড়ে এখন মেট্রোর কাচে মোবাইল আটকে রিল করার ভিডিও ট্রেন্ডিং! অনেকেই ভাবছেন সত্যিই মেট্রোর সঙ্গেই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে শখের মোবাইলও?
ব্যাপারটা ঠিক কী? সোশাল মিডিয়ায় বুঁদ প্রজন্মের প্রায় সকলেই দেখে ফেলেছেন মেট্রো স্টেশনের রিল। এক যুবক হাতে ফুল নিয়ে এসে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মেট্রোর কাচে লাগিয়ে দিচ্ছেন মোবাইল। এরপর গানের সঙ্গে পোজ দিচ্ছেন। হঠাৎই চলতে শুরু করে মেট্রো। প্রথমে যুবক গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছুটতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মেট্রো গতি বাড়ালে যুবক স্বাভাবিকভাবেই তাল সামলানে পারেন না। ফলে তিনি থেকে যান স্টেশনেই। মোবাইল চলে যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন মোবাইলটার কী হচ্ছে? আসলে রিল যিনি করছেন তার পরিচিত কেউ পরের স্টেশনে বা মেট্রোর ভিতরে থাকছেন। যিনি নেমে মোবাইলটি নিয়ে নিচ্ছেন। ফলে এতে মোবাইল হাতছাড়া হওয়ার কোনও সম্ভাবনা সে অর্থে নেই। তবে এই রিল তৈরি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। মেট্রোর গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৌঁড়তে গিয়ে যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
তাই এ নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেখানে সাফ বলা হয়েছে, "দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন লক্ষ্য করেছে যে কিছু সোশাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মেট্রোর জানালায় তাদের মোবাইল ফোন লাগিয়ে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে ভিডিও করছেন। এই কাজটি অন্যান্য যাত্রীদের জন্য অসুবিধা বা এমনকি আঘাতের কারণ হতে পারে। ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোন ডিভাইসের ক্ষতি করতে পারে। ডিএমআরসি কর্তৃপক্ষ এটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং যদি কোনও নির্মাতা এই ধরনের শ্যুটে জড়িত থাকার কারণে ধরা পড়ে তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই, কনটেন্ট নির্মাতাদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তাঁরা যেন দিল্লি মেট্রো চত্বরের ভেতরে এ ধরনের ভিডিও ধারণ না করেন।" তাই দিল্লি হোক বা কলকাতা, এরকম ভিডিও করার প্ল্যান যদি করে থাকেন, এখনই সতর্ক হয়ে যান। নাহলে বড়সড় সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
