shono
Advertisement
Diabetes Temple

দেশের এই মন্দিরে গেলেই সারে ডায়বেটিস, ভক্তদের বিশ্বাস, রোগ সারায় পিঁপড়েরা!

মন্দিরের আসল নাম কারুম্বেশ্বরর মন্দির। তামিল সন্ত তিরুজ্ঞানাসম্বন্দর ও তিরুনাভুক্কারাসর তাঁদের ভক্তিগীতিতে যে ২৭৫টি পাড়ল পেত্রা স্থলম অর্থাৎ পবিত্র শিবমন্দিরের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যেই অন্যতম এটি।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 07:55 PM Jun 27, 2026Updated: 07:55 PM Jun 27, 2026

সুখ-স্বাস্থ্য-সন্তান চেয়ে বারেবারে ঈশ্বরের দ্বারস্থ হয় মানুষ। যে রোগের দাপটে সে বহুকাল ধরে কাবু, তা থেকেও নিষ্কৃতি চায় প্রায়শই। কিন্তু এমন এক মন্দির, যেখানে মানুষ যায় কেবলমাত্র একটি রোগই সারানোর জন্য— এমনটা খুব একটা শোনা যায় না। ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে তামিলনাড়ুতে অবশ্য রয়েছে এমনই এক মন্দির, যেখানে আগত ভক্তদের দাবি থাকে কেবল একটিই— ব্লাড সুগার থেকে মুক্তি!

Advertisement

মানুষের মুখে মুখে কোইলভেনি গ্রামের এই মন্দিরের নামই হয়ে গিয়েছে ‘ডায়বেটিস মন্দির’। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্দিরে বিশেষ একটি আচার পালন করলে রক্তশর্করার যাবতীয় সমস্যা কমতে পারে। ঈশ্বরের উদ্দেশে ভক্তরা শুধুমাত্র গুড় নিবেদন করেন!

মন্দিরের আসল নাম কারুম্বেশ্বরর মন্দির। তামিল সন্ত তিরুজ্ঞানাসম্বন্দর ও তিরুনাভুক্কারাসর তাঁদের ভক্তিগীতিতে যে ২৭৫টি পাড়ল পেত্রা স্থলম অর্থাৎ পবিত্র শিবমন্দিরের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যেই অন্যতম এটি। ঈশ্বর ছাড়াও এই মন্দিরে বাস করে লক্ষাধিক পিঁপড়ে! বহু বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ প্রাচীন এই মন্দিরে প্রার্থনা করতে আসেন।

স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মধুমেহ সারাতে চাইলে গুড় হাতে আসতে হয় মন্দিরে। নিবেদন করার পর সেই গুড় যদি মন্দিরে উপস্থিত পিঁপড়েরা খায়, অথবা বহন করে নিয়ে যায়, তা শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত ‘মিষ্টতা’ বা রক্তের শর্করা প্রতীকীভাবে দূর হয়ে যায়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি কী বলে?
স্বাভাবিকভাবেই এই বিশ্বাসের পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাজনিত অবস্থা, যার নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মন্দিরের আচারকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের কেন্দ্র হিসেবে দেখা উচিত, চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়। এখানে বড়জোর মানসিক জোর পেতে পারেন ভক্তরা, যা রোগের সঙ্গে লড়বার ক্ষমতা দিতে পারে।

তবে অপার ভক্তিতে বুঝি সত্যিই রোগ জয় করা যায়। বহু ভক্তই এই মন্দির থেকে ঘুরে গিয়ে দাবি করেছেন যে রাতারাতি উবে গিয়েছে তাঁদের ডায়বেটিসের সমস্যা! সে দাবি সত্যি হোক বা কাল্পনিক— রোগ সারবে, এই বিশ্বাসই প্রতি বছর ভক্তদের ভিড় জমায় মন্দির চত্বরে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement