দেশের প্রথম জুডোকা হিসাবে কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) সোনা জিতেছেন। অস্মিতা দে'কে নিয়ে হইচই দেশজুড়ে। কিন্তু আচমকাই বিতর্ক বাঁধল তাঁর কেরিয়ার নিয়ে। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিয়ম অনুযায়ী, কমনওয়েলথ পদকজয়ী হিসাবে উত্তরপ্রদেশ সরকারের থেকে পুরস্কার পাবেন তিনি। এবার প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি আদৌ পুরস্কার পাওয়ার 'যোগ্য' তো?
আসলে অস্মিতা উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও আদতে তিনি ত্রিপুরার ভূমিকন্যা। তাঁর জন্ম দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বেলোনিয়ার এক সাধারণ পরিবারে। বাবা গণেশ দে ছিলেন সাধারণ সাইকেল মেকানিক। অত্যন্ত দারিদ্রের সঙ্গেই ছোটবেলা কেটেছে অস্মিতার। খানিকটা অর্থের অভাবেই ত্রিপুরা থেকে উত্তরপ্রদেশ পাড়ি দেন তিনি। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে গিয়ে নিজের যোগ্যতাতেই পুলিশে চাকরি অর্জন করেন। জুডোর ম্যাট থেকে একের পর এক সাফল্যও ছিনিয়ে আনেন।
উত্তরপ্রদেশে পাড়ি দেওয়ার পর কেরিয়ারে ব্যাপক উন্নতি হয় অস্মিতার। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক স্বর্ণপদক জেতেন তিন বছর ধরে। নিয়ম অনুযায়ী, কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী হিসাবে উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফ থেকে দেড় কোটি টাকা পাবেন তিনি। কিন্তু অ্যাথলিটদের এই পুরস্কারমূল্যের নিরিখে রয়েছে কিছু শর্ত। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হলে বা দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেরাজ্যের কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে এই পুরস্কার মিলবে। এই দুই শর্ত অনুযায়ী অস্মিতার পুরস্কার পাওয়া উচিত নয়।
কিন্তু তৃতীয় শর্ত বলে, আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধি হিসাবে অংশ নিতে হবে। সেই শর্ত পূরণ করে ফেলেছেন অস্মিতা। তাই যোগী সরকারের থেকে পুরস্কার পেতে কোনও বাধা নেই তাঁর। তা সত্ত্বেও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ অস্মিতাকে 'বহিরাগত' তকমা দিয়ে প্রশ্ন তুলছে। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের আরেক অ্যাথলিট গুলবীর সিংও ১.২৫ কোটি টাকা পুরস্কার পাবেন। সদ্যসমাপ্ত কমনওয়েলথ গেমসে ১০ হাজার মিটার দৌড়ে রুপো এবং ৫ হাজার মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন। দুই ইভেন্ট মিলিয়ে আর্থিক পুরস্কার পাবেন তিনি। এছাড়াও কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়া আরও ৭ অ্যাথলিটকেও পুরস্কৃত করা হবে।
