আনন্দ ও আক্ষেপ! কমনওয়েলথ গেমসে জ্যাভলিনের মঞ্চে একই সঙ্গে জোড়া অনুভূতি ভারতের। একদিকে যেমন এই ইভেন্টে জোড়া পদক জিতে ইতিহাস গড়ার আনন্দ, অন্যদিকে তেমনই নীরজ চোপড়ার সোনা না পাওয়ার আক্ষেপ। কমনওয়েলথে কামব্যাকের মঞ্চে ভারতের সোনার ছেলে এ মরশুমে নিজের সেরাটা দিলেন বটে, কিন্তু তাতে সোনালি সাফল্য এল না। নীরজ পেলেন রুপো। সোনা জিতলেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ওই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ভারতের যশবীর সিং।
গ্লাসগোর স্কটসটাউন স্টেডিয়ামে পরিস্থিতি কোনওভাবেই জ্যাভলিন ছোড়ার অনুকূল ছিল না। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে শুরুটা ভালোই করেন নীরজ। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল কমনওয়েলথে নীরজের প্রথম এবং প্রধান প্রতিপক্ষ হবেন অলিম্পিকে সোনাজয়ী পাক তারকা আরশাদ নাদিম। কিন্তু তিনিও ফর্মে নেই। ফাইনালের প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান আরশাদ। যে আট জন ফাইনালের চূড়ান্ত রাউন্ডে সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ৩ জন ভারতের। নীরজ ছাড়াও যশবীর এবং রোহিত যাদব ফাইনালে ওঠেন।
নীরজ একটা সময় পর্যন্ত ৮৫.৮৩ মিটার ছুড়ে সোনাজয়ের দৌড়ে সবার আগে ছিলেন। কিন্তু খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে ৮৯.৭৫ মিটার ছুড়ে বাজিমাত করে যান। নীরজ আর ওই দূরত্ব শেষমেশ ছুঁতে পারেননি। তবে শেষবেলায় চমক দিয়েছেন যশবীর। নিজের শেষ থ্রো'য়ে ৮৫.৪১ মিটার ছুড়ে ব্রোঞ্জ জিতে সকলকে চমকে দিয়েছেন তিনি।
২০১৮-য় কমনওয়েলথে সোনা জয়ের পর প্রথম বার এই প্রতিযোগিতার নেমেছিলেন নীরজ। চার বছর আগে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এদিন প্রথম প্রচেষ্টার ৮০.৯৭ মিটার ছোড়েন। দ্বিতীয় থ্রো-য়ে মরশুমের সেরা থ্রো নীরজের। ৮৫.৮৩ মিটার বর্শা ছোড়েন। অন্যদিকে পাথিরাগে প্রথম থ্রো ফাউল করলেও দ্বিতীয় থ্রো-য়ে ৮৯.৭৫ মিটার ছুড়ে সকলকে চমকে দেন। এরপর নীরজ আর ওই দূরত্বের ধারেকাছে যেতে পারেননি। আসলে সাম্প্রতিক অতীতে তেমন ছন্দে নেই ভারতের সোনার ছেলে। সেটা কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ অনুরাগীদের জন্য।
