shono
Advertisement
Brijbhushan Sharan Singh

'যৌন হেনস্তার অভিযোগ মিথ্যা ও আরোপিত', 'নির্দোষ' ব্রিজভূষণ নিয়ে পর্যবেক্ষণ দিল্লির আদালতের 

সোমবারই যৌন নির্যাতনের মামলা থেকে ব্রিজভূষণকে মুক্তি দিয়েছিল আদালত। আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিক অশ্বিনী পনওয়ারের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসার পর এই ঘটনাকে নিয়ে নতুন করে হয়েছে চর্চা শুরু হয়েছে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 11:01 AM Aug 10, 2026Updated: 03:06 PM Aug 10, 2026

দেশের প্রাক্তন কুস্তি সংস্থার কর্তা ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের (Brijbhushan Sharan Singh) বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে 'মিথ্যা ও আরোপিত' বলে উল্লেখ করল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। সোমবারই যৌন নির্যাতনের মামলা থেকে ব্রিজভূষণকে মুক্তি দিয়েছিল আদালত। আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিক অশ্বিনী পনওয়ারের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসার পর এই ঘটনাকে নিয়ে নতুন করে হয়েছে চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিক অশ্বিনী পনওয়ারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের নেপথ্যে 'গভীর ষড়যন্ত্র' ছিল। এমনকী অভিযোগের নেপথ্যে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্য' থাকার কথাও উল্লেখ করেছে আদালত। রায়ের কপিতে বলা হয়েছে, হরিয়ানার রোহতকের মহাদেব অ্যাকাডেমির পুরুষ ও মহিলা কুস্তিগির এবং প্রশিক্ষকেরা সম্মিলিত ভাবে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। আদালতের মতে, যন্তর মন্তরে ধরনায় বসার আগে পঞ্চম সাক্ষীর তরফে যৌন হয়রানির কোনও অভিযোগ ছিল না। যৌন নির্যাতনের শিকার কোনও মহিলা কুস্তিগিরের নামও তখন সামনে আসেনি।

আদালতের মতে, যন্তর মন্তরে ধরনায় বসার আগে পঞ্চম সাক্ষীর তরফে যৌন হয়রানির কোনও অভিযোগ ছিল না। যৌন নির্যাতনের শিকার কোনও মহিলা কুস্তিগিরের নামও তখন সামনে আসেনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, "নথিপত্র থেকে যা জানা যায়, ধরনা থেকে যৌন হয়রানির কোনও অভিযোগ ছিল না। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, এমন কোনও মহিলা কুস্তিগিরের নামও উল্লেখ করা হয়নি।" পরবর্তী সময়ে কয়েকজন মহিলা কুস্তিগির সামনে এসে একই ধরনের অভিযোগ করেন। ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল পুলিশের কাছে সেই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয় বলেও জানিয়েছে আদালত। মামলায় দুই কুস্তিগির প্রথমে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুললেও পরে তাঁদের বক্তব্যে পরিবর্তন আসে। আদালতের মতে, অন্য অভিযোগকারীদের তুলনায় ওই দুই কুস্তিগিরের বক্তব্য বেশি বিশ্বাসযোগ্য। এই মামলায় ব্রিজভূষণের পাশাপাশি ভারতীয় কুস্তি সংস্থার তৎকালীন সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪, ৩৫৪এ, ৩৫৪ডি এবং ৫০৬(১) ধারায় মামলা হয়েছিল। তোমরের বিরুদ্ধে ছিল ১০৯ ধারা। দু'জনেই এতদিন জামিনে ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন দেশের একাধিক নামী কুস্তিগির। বজরং পুনিয়া, সাক্ষী মালিক এবং ভিনেশ ফোগাট-সহ কয়েকজন কুস্তিগির দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনায় বসেছিলেন। ছয় মহিলা কুস্তিগিরের অভিযোগের মধ্যে একজন নাবালিকাও ছিলেন। অভিযোগের জেরে তৎকালীন ভারতীয় কুস্তি সংস্থার সভাপতি ব্রিজভূষণকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। পরে সভাপতি হন সঞ্জয় সিং। তবে আন্দোলনকারী কুস্তিগিরদের অভিযোগ ছিল, সংগঠনের উপর ব্রিজভূষণের প্রভাব থেকেই গিয়েছে।

অভিযোগের জেরে তৎকালীন ভারতীয় কুস্তি সংস্থার সভাপতি ব্রিজভূষণকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। পরে সভাপতি হন সঞ্জয় সিং। তবে আন্দোলনকারী কুস্তিগিরদের অভিযোগ ছিল, সংগঠনের উপর ব্রিজভূষণের প্রভাব থেকেই গিয়েছে।

আদালতের রায়ে ব্রিজভূষণ মুক্তি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভিনেশ। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁকে মর্মাহত করেছে। অন্যদিকে, আদালতের সিদ্ধান্তের পর ব্রিজভূষণ বলেন, "প্রথম দিন থেকেই বলে এসেছি, আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তি ভোগ করতে রাজি। কিন্তু আদালত সব অভিযোগ থেকে আমাদের সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে। অবশ্যই আমার জন্য এটা আনন্দের। প্রথম দিন থেকে যেটা বলে এসেছি, সেটাই প্রমাণ হল। আমার প্রতিপক্ষেরা কী ভেবেছিলেন জানি না। আমি জানতাম, সত্যের জয় হবেই।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement