আরও ব্যাকফুটে সুশীল কুমার (Sushil Kumar)। অলিম্পিকে পদকজয়ী কুস্তিগিরের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। প্রাক্তন জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগির সাগর ধনকড় হত্যা মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সুশীল। ২০২১ সালের ৪ মে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে দুই দল কুস্তিগিরের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় সুশীলের দলবলের মারধরে সাগরের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
বছর পাঁচেক আগে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের মতে, তারকা কুস্তিগিরের কথাতেই সাগরকে মারধর করা হয়েছিল। আবার তদন্তকারীদের জেরায় সুশীল বলেছিলেন, তিনি সাগরকে উচিত শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। তাই মারধরের পরিকল্পনা। কিন্তু খুন করতে চাননি কখনওই।
বিচারাধীন সেই মামলাতেই জামিন চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুশীল। তবে বিচারপতি পুরুষৈন্দ্র কুমার তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতে সুশীলের জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশের আইনজীবী জানান, সুশীল প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। ফলে তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া দু'টিই প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর আচরণ এবং অভিযোগের গুরুত্বও বিবেচনা করার আবেদন জানানো হয়।
সাগর ধনকড়ের বাবার আইনজীবীও জামিনের বিরোধিতা করেন। অন্য দিকে, সুশীলের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন তাঁর মক্কেল। কয়েকজন সরকারি সাক্ষীর জিজ্ঞাসাবাদ এখনও বাকি থাকলেও, দীর্ঘ সময় ধরে জেলে থাকার কারণে তাঁকে জামিন দেওয়া উচিত। দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সুশীলের আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারপতি বলেন, "ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। নৃশংস হামলায় এই মৃত্যু ঘটেছে।" আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তাছাড়া ভিডিও-সহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আদালত আরও বলেছে, এর আগে সুপ্রিম কোর্টও সুশীলের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। পাশাপাশি, আগের জামিনের সময় মামলার সাক্ষীদের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগের কথাও বলেছে আদালত। উল্লেখ্য, খুনের পর থেকেই পলাতক ছিলেন ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। সুশীলকে সাময়িক ভাবে পুলিশি হেফাজতে রাখা হলেও পরবর্তীকালে তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে খুনের মামলায় চার্জ গঠন হয় সুশীলের বিরুদ্ধে। সুশীল-সহ মোট ১৭ জনের নাম ছিল মামলার চার্জশিটে। নিহত কুস্তিগিরের পরিবার চেয়েছিল, অবিলম্বে ফাঁসি দেওয়া হোক সুশীলকে। এবার সুশীলের জামিনের আর্জি খারিজ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। ফলে সাগর ধনকড় হত্যা মামলায় আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
