'জয় তো জয়ই হয়।' চারদিকে কেউ নেই। দুর্গন্ধের জন্য কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ধারেকাছে আসতে চাইছেন না। আর সেই ফাঁকে দিব্যি চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার মহিলা প্রতিযোগী। চারদিকে ছিছিকার, প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রতিবাদ করছেন, পরে ক্ষমা চায় আয়োজক কর্তৃপক্ষও। তাতে কী? অজি অ্যাথলিট জোয়ানা উইত্রিজিক জানিয়ে দিলেন, যেভাবেই হোক। তিনিই তো জিতেছেন।
কিন্তু কেন এত প্রতিবাদ? কীভাবেই বা জিতেছেন ২২ বছর বয়সি জোয়ানা? উত্তর হল, 'প্যান্ট নোংরা' করে। চিনের বেজিংয়ে চলছে অভিনব এক প্রতিযোগিতা। যার নাম 'হাইরক্স'। যেখানে একসঙ্গে মোট ৯ রকম খেলা থাকে। প্রথমে ১ কিলোমিটার দৌড়, তারপর কোনও একটি ওয়ার্কআউট। আবার ১ কিলোমিটার দৌড়, আবার অন্য একটি ওয়ার্কআউট। এরকম মোট ৮বার হয়। পুরুষ ও মহিলারা একসঙ্গে দৌড় শুরু করেন।
এবারও তাই হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর জোয়ানার আশপাশ ফাঁকা হতে থাকে। ম্যাচের আগে ডায়েরিয়ায় ভুগছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই, এই অবস্থায় কেউ এত বড় পরিশ্রমের ধকল তাঁর শরীর নিতে পারেনি। তার পরিণাম দেখা গেল প্রতিযোগিতা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে। কঠোর পরিশ্রমের জন্য তিনি প্যান্টেই মলত্যাগ করে ফেলেন। তাঁর পা বেয়ে তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়তে থাকে। বিষয়টা দৃষ্টিকটূ তো বটেই, বাকি প্রতিযোগীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু জোয়ানা ট্র্যাক ছেড়ে আসতে রাজি হননি।
ফলে অস্বস্তির সঙ্গে বাকি প্রতিযোগীরা পিছিয়ে আসেন। অন্যদিকে কর্মকর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ট্র্যাক পরিষ্কার করার জন্য। এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিন্তু জোয়ানা ভুল মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, "লোকে বলে হয় কঠোর পরিশ্রম করো, নয়তো বাড়ি চলে যাও। শুনুন, জয় তো আসলে জয়ই হয়।" তবে অনেকের মতে, নিজের ও বাকিদের স্বাস্থ্যের কথা তাঁর ভাবা উচিত ছিল। এটা স্বার্থপরতা। পরে চিনের হাইরক্স আয়োজকরা সাধারণ দর্শক ও অন্য প্রতিযোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তারা জানিয়েছে, এবার এই নিয়ে আরও কড়া নিয়ম আনবে।
