প্রতীক জটিলতার মধ্যেই নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা ঋতপন্থী তৃণমূলের। আজ, সোমবার সন্ধ্যায় ওই দুই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হল। নন্দীগ্রামের প্রার্থী এহেতাশ মুল হক। রেজিনগরে প্রার্থী হচ্ছেন সফিউজ্জমান শেখ। উপনির্বাচনে ঋতপন্থী ও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের লড়াই কতটা হবে? তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক ভাগ হয়ে কোন শিবিরে কতটা যাবে? সেই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই। রাজ্যের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে যতটা লড়াই হবে, তার থেকেও বেশি দড়ি টানাটানি দুই তৃণমূলের মধ্যে হবে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। কোটি কোটি টাকা কার দখলে থাকবে? সেই নিয়ে আদালতে লড়াই হচ্ছে। প্রতীক নিয়েও লড়াই হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির ও ঋতপন্থী তৃণমূলের। নির্বাচন কমিশনের কাছে দুই শিবিরই তাঁদের পক্ষের কাগজপত্র ও বক্তব্য জমা দিয়েছে। সেই আবহেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল কালীঘাট তৃণমূল। নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে লড়বেন রবিউল আলম চৌধুরী।
দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল, নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে পারেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে প্রার্থী দেবে না বলে ঘোষণা করেছিল ঋতপন্থী তৃণমূল। কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে শামিল হওয়ার সাহস দেখাতে পারেননি কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী। এরপরেই ঋতব্রত শিবিরের থেকে এদিনই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়ে তাঁদের তরফে প্রার্থী ঘোষণা করলেন। 'নাটকীয়'ভাবে ঋতপন্থী তৃণমূলও দুই কেন্দ্রে জোড়া ফুল প্রতীকেই লড়াই করছে। তাহলে কি তৃণমূলের দুই শিবিরই উপনির্বাচনের দুই কেন্দ্রে একই প্রতীকে লড়াই করবে?
এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। সেজন্য উপনির্বাচনে জোড়া ফুল প্রতীকেই তাঁরা লড়বেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে বক্তব্য, নথি পেশ করা হয়েছে। এদিকে ১৬ তারিখ কমিশন সময় দিয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ তারিখ। সেজন্য কমিশন কী নির্দেশ দেয়? সেদিকে অপেক্ষায় রয়েছেন ঋতব্রতরা। সেজন্য জোড়া ফুল চিহ্নেই এখন তাঁরা প্রচার করবেন। তাহলে কি এবার একই চিহ্ন নিয়ে দুই শিবির প্রচার করবে?
