হতাশার রাত ভারতের। শুরু থেকে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসের কাছে ১-৩ গোলে হারতে হল হরমনপ্রীত সিংদের। ভারতের সেমিফাইনালের আশা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের উপর। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে বিদায় নিতে হবে ভারতকে।
এদিন শুরুটা খারাপ করেনি ভারত। বল দখলে রেখে দুই উইং ব্যবহার করে বারবার ডাচ বক্সে ঢুকে পড়তে দেখা গিয়েছে ভারতীয় খেলোয়াড়দের। তবে ১১ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় নেদারল্যান্ডস। মিডেনডর্পের রিভার্স হিটে দারুণ সুযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এরপর টানা তিনটি পেনাল্টি কর্নার পায় নেদারল্যান্ডস। তিনবারই রুখে দেন মনপ্রীত সিং। সেই সময় ভারতের রক্ষণ বেশ আঁটসাঁট ছিল। ২০ মিনিটে বিবেক সাগর প্রসাদের দক্ষতায় সুযোগ তৈরি করে ভারত। কিন্তু ডি বক্সের কেউ ছিলেন না। চার মিনিট পর আবারও সুযোগ আসে। মনপ্রীতের দারুণ পাস পেয়ে গোলের সামনে পৌঁছে যান দিলপ্রীত সিং। তাঁর শট রুখে দেন ডাচ গোলরক্ষক। প্রথম কোয়ার্টারে ৬২.৮ শতাংশ বলের দখলও ছিল ভারতের। যদিও একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলমুখ খুলতে পারেনি ভারত।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চাপে পড়লেও ভারতের ডিফেন্সকে টলাতে পারেনি ডাচেরা। তবে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে বদলে যায় ছবিটা। ৪১ মিনিটে ডান দিক থেকে নেদারল্যান্ডসের দুরন্ত আক্রমণ। কারকেরার শটে স্টিক ছুঁইয়ে গোল করেন টেলগেনক্যাম্প। সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় পরের মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় ভারত। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগানো যায়নি। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতেই ডান দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণ শানিয়ে ভারতের রক্ষণকে ছত্রভঙ্গ করে হোডেমেকার্সের নিখুঁত টাচে স্কোর লাইন দ্বিগুণ করে নেদারল্যান্ডস।
হাল ছাড়েনি ভারত। ৫২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পায় তারা। হরমনপ্রীত সিংয়ের প্রথম শট ডাচ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি ভারতীয় অধিনায়ক। গোলরক্ষকের ডান দিক দিয়ে জোরালো নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন হরমনপ্রীত। গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঝমাঠে ভারতের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে আসে ডাচরা। থাইস ভান ডামের গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে হার মানতে হয় ভারত। শনিবার রাত ১০টার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ভারতকে।
