এপ্রিলের গোড়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডোপ-অপরাধী ক্রীড়াবিদদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছিল ভারতের নাম। আর এবার আরও বড়সড় ধাক্কা ভারতের ভাবমূর্তিতে। অ্যাথলেটিক্স ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ)-এর তালিকায় ভারতের নাম উঠে এল 'ক্যাটেগরি এ'-তে। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে এটি ডোপিংয়ের জন্য অন্যতম সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগ। সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের অ্যাথলেটিক্স এখন বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের কড়া নজরদারির আওতায়।
এআইইউ'র বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই ডোপ-অপরাধী দেশের তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছে ভারতের নাম। গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ব অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির বার্ষিক রিপোর্টেও ডোপ-অপরাধী দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছিল ভারতের নাম। তখনকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের ২৬০ অ্যাথলিটের শরীরে নিষিদ্ধ ওষুধের উপস্থিতির প্রমাণ মেলে। সেই সময় ভারতের ন্যাশনাল অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (নাডা) মোট ৭,১১৩টি প্রস্রাব ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সেখানে ৩.৬ শতাংশ পজিটিভ পাওয়া যায়। এখানেই শেষ নয়, ২০২২ ও ২০২৩ সালেও ক্রীড়াবিদদের ডোপিং পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট এসেছিল ভারত থেকে।
নাডা এই পরীক্ষাগুলি পরিচালনা করলেও, প্রশ্ন উঠছে দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার কাঠামো ও নজরদারি নিয়ে। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া বিভিন্ন জাতীয় শিবিরের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র রিলে দলের জন্য এই ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। বাকি শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলিটরা প্রশিক্ষণের জন্য বেসরকারি সংস্থা যেমন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জেএসডব্লিউ গ্রুপ, টাটা গ্রুপ অথবা সরকারি বাহিনী যেমন সেনা ও নৌবাহিনীর উপর নির্ভর করছেন। সুতরাং এদেশে অ্যান্টি ডোপিং কাঠামো নিয়ে যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর নজরদারি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে ডোপিং সংক্রান্ত উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে গত চার বছরের পরিসংখ্যান সামনে আসতেই। এআইইউ জানিয়েছে, ডোপিং-বিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের (এডিআরভি) প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই কারণেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্সে ডোপিং সংক্রান্ত উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে গত চার বছরের পরিসংখ্যান সামনে আসতেই। এআইইউ জানিয়েছে, ডোপিং-বিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের (এডিআরভি) প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই কারণেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্ব অ্যাথলিট অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা)-র অধীন এআইইউ-র এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনের নিরিখে ভারত বহু বছর ধরে ডোপ অপরাধীদের তালিকায় শীর্ষে বা তার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৪৮টি এডিআরভি নিয়ে ভারত ছিল বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৩ সালে সংখ্যাটা ছিল ৬৩। সেবারও দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভারত। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৭১-এ। সেবার শীর্ষে ওঠে ভারতের নাম। ২০২৫ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত (এখনও পর্যন্ত ৩০টি)। যা তালিকায় আবার শীর্ষে রেখেছে ভারতকে।
'ক্যাটেগরি এ'-তে পড়ায় ভারতীয় অ্যাথলেটিক ফেডারেশন (এএফআই)-কে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডোপ টেস্ট করাতেই হবে। নিয়ম না মানলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
এই পরিসংখ্যানই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ক্রীড়া মহলে। 'ক্যাটেগরি এ'-তে পড়ায় ভারতীয় অ্যাথলেটিক ফেডারেশন (এএফআই)-কে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডোপ টেস্ট করাতেই হবে। নিয়ম না মানলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এআইইউ চেয়ারম্যান ডেভিড হাউম্যান বলেন, “ভারতে ডোপিং পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক। কিন্তু সেই অনুযায়ী অ্যান্টি ডোপিং ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “সংস্কার আনার লক্ষ্যে এআইইউ সরাসরি এএফআইয়ের সঙ্গে কাজ করবে।” তাছাড়াও ওয়াডা'র প্রেসিডেন্ট উইটোল্ড বাঙ্কার সম্প্রতি ভারতে এসেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এএফআইয়ের মুখপাত্র আদিল সুমারিওয়ালা বলেন, “ভারতে বেশি অ্যাথলিট ধরা পড়ছে কারণ আমরা এখন বেশি পরীক্ষা করছি। নজরদারি বাড়া খারাপ নয়।” তাঁর সংযোজন, “ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রয়েছে। এই অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” উল্লেখ্য, ২০৩০ সালে ভারতে বসবে কমনওয়েলথ গেমসের আসর। ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনেরও লক্ষ্য রয়েছে। তার আগে এআইইউ’র তালিকা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
