সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বহুদিনের আক্ষেপ মেটানো! মধুর প্রতিশোধ। করুণ ওয়াকওভার। স্যাম কুয়েরির কাছে অ্যান্ডি মারের ছিটকে যাওয়া। রাওনিককে ফেডেরারের চুরমার করা। বার্ডিচকে ওয়াকওভার দেওয়া জকোভিচের। উইম্বলডন কোয়ার্টার ফাইনাল ফ্যাব থ্রি—র তিন ভিন্ন রূপের সাক্ষী হয়ে থাকল!
মারের মুখোমুখি হয়ে কুয়েরির মন্তব্য ছিল, “উইম্বলডনের দু’সপ্তাহ আমেরিকান না হয়ে যদি ব্রিটিশ হতে পারতাম!” কারণটাও বলেছিলেন ২৯ বছর বয়সি লাস ভেগাস বাসিন্দা। সান ফ্রান্সিসকোয় জন্ম এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ায় টেনিস শিখলেও যাঁর বাবার আক্ষেপ ছিল, ‘স্যাম আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ডেট্রয়েট টাইগার্সের বেসবল প্লেয়ার হিসেবে আরও বেশি কামাতে পারত। যে সুযোগ আমি পেয়েও ভুল করে নিইনি।’ স্যাম কুয়েরির বাবার আক্ষেপ এখন গর্বে বদলাবে নিশ্চয়ই!
[সোনা জিতে বারবার বাবার কথাই মনে পড়ছে দেবশ্রীর]
সাড়ে ছ’ফুটের দৈত্য এদিনের পরে আর শুধু শারীরিক দিক থেকে নয়। গ্র্যান্ড স্ল্যামেও দৈত্য হয়ে উঠলেন। কুয়েরির সার্কিটে কিছু কীর্তি আগেই ছিল। একটানা (১০) ‘এস’ সার্ভিস করার বিশ্বরেকর্ড তাঁর র্যাকেটে। ট্যুরে ধারাবাহিক ভয়ঙ্কর জোরাল সার্ভের জন্য বিখ্যাত কুয়েরি গত বছরও তার আগেরবারের চ্যাম্পিয়নকে ছিটকে দিয়েছিলেন উইম্বলডনে। যখন তাঁর কাছে চার সেটে হারেন জকোভিচ। এতদিন সেটাই ছিল গ্র্যান্ড স্ল্যামে কুয়েরির সেরা রেজাল্ট। উইম্বলডন কোয়ার্টার ফাইনাল। এক বছর পর ফের উইম্বলডনে তার আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন শিকার হলেন কুয়েরির। এদিন সোচ্চার সমর্থকে ঠাসা সেন্টার কোর্টে ব্রিটেনের ঘরের ছেলে, বিশ্বের এক নম্বর, শীর্ষবাছাই ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন মারেকে হারিয়ে কুয়েরি ২০০৯—এ রডিকের পর উইম্বলডনে প্রথম মার্কিন পুরুষ সেমিফাইনালিস্ট। ৩—৬, ৬—৪, ৬—৭ (৪—৭), ৬—১, ৬—১। শেষ দু’সেটে কোমরের পুরনো ব্যথা মারেকে একটু কাবু করে ফেলেছিল ঠিকই। যার যন্ত্রণায় গত মাসেই মারে উইম্বলডনের সেরা প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট কুইন্স ক্লাব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। কিন্তু উইম্বলডনে প্রথম চার রাউন্ডে একটাও সেট না খোয়ানো মারেকে একশো পার্সেন্ট ফিট দেখিয়েছে। মারের ফর্ম দেখে বেকার থেকে ম্যাকেনরোর মনে হচ্ছিল, ফোরহ্যান্ড এবং কোমর, দু’টোই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তাঁর। কুয়েরির বিরুদ্ধেও এক সেট ও একটা ব্রেকে এগিয়েছিলেন মারে। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে ৪—৩’ ফলে নিজের সার্ভিস গেম হারার পর থেকেই ম্যাচ থেকে তাঁর সরে যাওয়ার শুরু। তৃতীয় সেটে টাইব্রেকে জিতে ফের ম্যাচে এগিয়ে গেলেও শেষ দু’সেটে ১৪টা গেমের ১২টায় হারেন মারে। ওইসময় তাঁকে কোমর নিয়ে সমস্যায় দেখাচ্ছিল।
[অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিপাকে মিতালি-ঝুলনরা]
তাতে অবশ্য কুয়েরির কৃতিত্ব কমছে না। যিনি অন্য তিন গ্র্যান্ড স্ল্যামে চতুর্থ রাউন্ড কখনও টপকাননি, তিনি আজ উইম্বলডন সেমিফাইনালে! ২০১১—এ কেরিয়ারের সেরা র্যাঙ্কিংয়ে (১৭) পৌঁছনো কুয়েরির এখন বিশ্বর্যাঙ্কিং ২৭। তবে এ বছরটাই তাঁর স্মরণীয়। কয়েকমাস আগে নাদালকে ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেক্সিকো ওপেনে। উইম্বলডনে মারে ম্যাচের পর কুয়েরি বলেছিলেন, “ওকে এই দু’সপ্তাহে পিঁপড়ে কামড়ালেও ইংল্যান্ডে সেটা হেডলাইন নিউজ! আমেরিকায় ফুটবল, টেনিস, বেসবল, বাস্কেটবল সবই দেখতে মাঠে ভিড় হয়। কিন্তু দেশের একশো পার্সেন্ট লোকই দেখে তা নয়। মেতে থাকে তাও নয়। যেমন উইম্বলডনের সময় ব্রিটেনজুড়ে হয়। কারণ অ্যান্ডি মারে। আমেরিকায় অনেকে হয়তো জানেনই না, এখন আমি কোথায়?” ১২ জুলাই, ২০১৭—র পর বাবার মতোই স্যাম কুয়েরিরও আক্ষেপ নিশ্চয়ই দূর হবে।
মারের হারের পর সেন্টার কোর্টেই ফেডেরার নিখুঁত টেনিস খেলে ৬—৪, ৬—২, ৭—৬ (৭—৪) রাওনিককে শুধু হারালেন তাই নয়। গতবারের সেই সেমিফাইনালে পাঁচ সেট যুদ্ধে অল্পের জন্য হারের শোধও তুললেন। তৃতীয় সেট টাইব্রেকে গড়ালেও সেখানে ০—৩ থেকে টানা পাঁচ পয়েন্ট তুলে নিয়ে উইম্বলডনের রাজা রজারের ৭—৪ জিতে একডজন বার সেমিফাইনালে ওঠা ফের বোঝাল ফেডেরার কেন সর্বকালের সেরা! সামনে এবার বার্ডিচ। গ্র্যান্ড স্ল্যামে দু’জনের দশম সাক্ষাৎ। বের্ডিচ ৭—৬ (৭—২), ২—০ এগিয়ে থাকার সময় জকোভিচ আগের রাউন্ডে কনুইয়ে লাগা চোটের যন্ত্রণায় এত বড় ম্যাচ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। দু’বছর আগে এদিনই (১২ জুলাই) তাঁর শেষ উইম্বলডন জিতে কোর্টের ঘাসের স্বাদ নিতে মুখে নেন টেনিসের জোকার! শুক্রবার অন্য সেমিফাইনালে মারে—ঘাতক কুয়েরি বনাম নাদাল—ঘাতক মুলারকে এদিন শেষ আটে হারানো চিলিচ। আর মিক্সড ডাবলসে সানিয়া—ডডিগের হারে উইম্বলডনে ভারতীয় চ্যালেঞ্জ বলতে শুধু থাকলেন বোপন্না। ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন বোপন্না—ড্রাবোস্কি জুটি এদিন ওঠে শেষ আটে।
The post মারেকে ছিটকে দিলেন কুয়েরি, উইম্বলডনে রইলেন শুধু রাজা রজার appeared first on Sangbad Pratidin.
