shono
Advertisement
SWP Investments

সংসার চালানো থেকে বিভিন্ন খরচ মেটানো, অবসরের পর কীভাবে এসডব্লিউপি করবেন?

অবসরের পর যে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্য রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট হাতে পেয়েছেন, তা-ই আপনার ‘কর্পাস’। তা নিজের রিস্ক টলারেন্স বুঝে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করুন। অনেকে সাবেক হাইব্রিড ফান্ড এই সব ক্ষেত্রে পছন্দ করেন।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 04:45 PM Jul 29, 2026Updated: 06:42 PM Jul 30, 2026

কী করে নিয়মিত টাকা তুলবেন, আবার 'ট্যাক্স এফিসিয়েন্ট'ও থাকতে পারবেন? তার জন্য আগে জানতে হবে, SWP (Systematic Withdrawal Plan) কীভাবে কাজ করে?

Advertisement

  • অবসরের পর যে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্য রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট হাতে পেয়েছেন, তা-ই আপনার ‘কর্পাস’। তা নিজের রিস্ক টলারেন্স বুঝে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করুন। অনেকে সাবেক হাইব্রিড ফান্ড এই সব ক্ষেত্রে পছন্দ করেন। ইক্যুইটি ও ফিক্সড-ইনকাম এখানে বিভিন্ন কম্বিনেশনে পাবেন। ইক্যুইটির রিস্ক বেশি, তবে ফিক্সড-ইনকামের ঝুঁকিও আছে, মনে রাখবেন।
  • প্রতি মাসে (বা আপনার পছন্দমতো ফ্রিকোয়েন্সিতে–তা কোয়ার্টারলি হতে পারে) কত টাকা তুলবেন, তা ঠিক করুন। নিজেদের সংসার চালানোর টাকা ‘কভার’ করতে চাইবেন অনেকেই।
  • প্রতি বার উইথড্রয়াল (ইউনিট বিক্রি করে টাকা তোলার জন্য) করার পর, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একটি ক্রেডিট নির্দিষ্ট ভাবে পাবেন।
  • কিছু ইউনিট বিক্রি হবে বটে, কিন্তু বাকি ইউনিটগুলি বিনিয়োগে থেকে যাবে। এবং মার্কেটের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী তার ভ্যালুয়েশন বাড়তে থাকবে, এমন আশা করা যায়।আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত যে টাকা পৌঁছে যাবে, তা পুরোদস্তুর আপনার কাজে লাগবে। এই কৌশল মেনে বহু অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ইদানিং সংসার চালাচ্ছেন এবং সব নিয়মিত খরচ মেটাতে পারছেন।

SWP কেন ‘ট্যাক্স এফিসিয়েন্ট’ বলে গণ্য করা হয়?

এক, SWP ও তার কার্যপ্রণালী ভালো করে জেনে নিন। পুরো তোলা টাকার উপর ট্যাক্স লাগে না–এই বিষয়টি অবশ্যই বুঝতে হবে। দুই, শুধুমাত্র লাভের উপর (মানে capital gains) ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে। তিন, ইন্টারেস্ট বা সুদ থেকে যা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে তুলনা করুন। খেয়াল করে দেখবেন, একই টাকা যদি প্রচলিত সুদ-ভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে আসে, তার তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই ট্যাক্সের বোঝা কম হতে পারে।

উদাহরণ
* বিনিয়োগ: ১০,০০,০০০ টাকা লগ্নি করা হয়েছে প্রথম বছরে কোনও ফিক্সড-ইনকাম ইনভেস্টমেন্টে
* ধরা যাক ১০% সুদ-ভিত্তিক বিনিয়োগ বেছে নিয়েছেন ইনভেস্টর
* তাহলে বছরে সুদ পাওয়া যাবে: ১,০০,০০০ টাকা
* ৩০% করের হারে (slab) ট্যাক্স দিলে: ৩০,০০০ টাকা দিতে হবে সরকারকে
* ইনভেস্টরের হাতে থাকবে: ৭০,০০০ টাকা

এবার প্রশ্ন, SWP (যেখানে মিউচুয়াল ফান্ড কিনেছেন সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টর) কীভাবে এর সঙ্গে পাল্লা দেবে? ধরা যাক, এই ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ হয়েছে দশ লক্ষ টাকা, তখন NAV ছিল দশ টাকা প্রতি ইউনিটে। আর এবারেও ১,০০,০০০ টাকার উইথড্রয়াল করা হয়েছে।

ধরা যাক তখন NAV দশ শতাংশ বেড়ে হয়েছে এগারো টাকা। এক লক্ষ টাকা উইথড্রয়াল হলে ৯,০৯১ সংখ্যক ইউনিট বিক্রি করা হল।

তাহলে করযোগ্য লাভ: ৯,০৯১ টাকা। এই প্রফিট ‘শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেনস’ (STCG) হিসাবে গণ্য হবে।

২০% হারে ট্যাক্স যদি দিতে হয়, তাহলে ১,৮১৮.১৮ টাকা দিতে হবে সরকারকে। তাহলে ইনভেস্টরের হাতে থাকবে ৯৮,১৮১.৮২ টাকা।

এবার চিন্তা করুন দ্বিতীয় বছরের কথা। যদি ইউনিট দুই বছরের বেশি সময় ধরে রাখা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি লাভ সংক্রান্ত (লং টার্ম ক্যাপিটাল গেনস বা LTCG) নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এবারেও দশ শতাংশ গ্রোথ এসেছে, মনে করুন।

অতএব NAV: ১২.১০ টাকা।

তাহলে পরিস্থিতি এই রকম হবে:
উইথড্রয়াল হবে ১,০০,০০০ টাকা। দ্বিতীয় বছরে ৮,২৬৪ ইউনিট তুলবেন ইনভেস্টর। ইউনিট পিছু ক্যাপিটাল গেনস ২.১০ টাকা (১২.১০- ১০.০০ টাকা)। তার লং টার্ম গেনস ১৭,৩৫৫ টাকার থেকে সামান্য বেশি।

এই ধরনের উত্তোলনের ক্ষেত্রে করযোগ্য LTCG শূন্য, ফলে সম্পূর্ণ ১,০০,০০০ টাকা হাতে আসবে।

এখানে দুটি পয়েন্ট:
* LTCG @ ১২.৫%
* Rs ১,২৫,০০০ টাকার উপরে যাচ্ছে না

তাহলে ‘post-tax’ পরিস্থিতি ইনভেস্টরের পক্ষে সুবিধাজনক।

কাদের জন্য SWP উপযুক্ত?

  • অবসরপ্রাপ্ত মানুষ, যিনি একটি কর্পাস সদ্য হাতে পেয়েছেন কর্ম জীবনের শেষে।
  • তাঁর প্রতি মাসে নিয়মিত টাকার প্রয়োজন, ‘রেগুলার’ খরচ মেটানোর জন্য এই টাকা তাঁর চাই-ই চাই।
  • তিনি মূলধন ধরে রেখে (মানে অক্ষত রেখে) ক্যাশ ফ্লো পেতে ইচ্ছুক।
  • যিনি ট্যাক্স-এফিসিয়েন্ট কৌশল মেনে অবসর জীবনে টাকার যথাযথ ব্যবহার করতে চান।
  1. মনে রাখবেন কয়েকটি খুব প্রাসঙ্গিক পয়েন্ট:
    SWP সংক্রান্ত নীতি সব জেনে নেবেন। বিশেষ করে করের হিসাব করবেন নিয়ম মেনে।
  2. বিনিয়োগের ধরন, হোল্ডিং পিরিয়ড এবং প্রচলিত ট্যাক্সের উপর নির্ভর করবে অনেক কিছু।
  3. বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন। কোন শ্রেণীর ফান্ড ব্যবহার করছেন, তার বৈশিষ্ট্য কী, রিস্ক কোথায়, তা অবশ্য বুঝতে হবে। নিজের ক্যাপিটালে যেন অযথা টান না পড়ে, এমন আশা সকলেই করবেন। মার্কেট কোনও ধরনের গ্যারান্টি দেবে না, তা জেনে নিন খুব ভাল করে।

–টিম সঞ্চয়

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement