ইনিশিয়াল পাবলিক অফার এখনও দেরি আছে, তবে শেয়ার ইস্যু করার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে–এমন খবর মাঝেমধ্যেই পাবেন। এই ‘প্রি-আইপিও স্টেজ’ ইনভেস্টরদের একাংশের জন্য জরুরি, বিশেষ করে যেখানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নামডাক আছে, ভবিষ্যত ভাল, এবং পরে মার্কেটে চাহিদার অভাব হবে না বলে বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন। ইদানিং
এই নিয়ে বাজারের অনেকেই বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন দেখতে পাচ্ছি, তাই বিষয়টা নিয়ে আজ কিছু বলতে চাই।
প্রথমেই বলি আমি কিন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, কোনও ধরনের কোম্পানির আনলিস্টেড শেয়ার নিয়ে পক্ষপাত থাকার প্রশ্নই নেই। শুধু সম্ভাব্য লাভ-লোকসান, ও কিছু দরকারি নিয়মনীতির দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এখানে মনে রাখবেন, নানা কারণে ভাল আনলিস্টেড শেয়ারের জন্য প্রি-আইপিও-র পর্যায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোম্পানির আর্থিক যাত্রার শুরুর দিকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ধাপ বলা যেতে পারে। এদিকে প্রায়ই দেখি, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ সব নিয়ে বিভিন্ন অসস্বচ্ছ ধারণা আছে। তাঁদের বলতে চাই যে, আনলিস্টেড কোম্পানি মানেই যে সব সময়ই ‘টিকে থাকার ঝুঁকি’ এমন নয়।
এই মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছি যে, একগুচ্ছ কোম্পানির নাম ব্রোকারদের আনলিস্টেড স্টকের তালিকায় রয়েছে। কোনও বিশেষ নাম উল্লেখ করব না, তবে এটা বলা যেতে পারে যে এদের পাবলিক পরিসরে আসাটা কেবল সময়ের অপেক্ষা।
হ্যাঁ, মানছি প্রাথমিক প্রাইভেট পর্যায়ে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি থাকতে পারে। ব্যবসার মডেল বদলে যেতে পারে। হয়তো কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কাঠামোতেও বদল আসতে পারে। ইনভেস্টমেন্ট মহল এই সব কোম্পানির উপর নজর রাখে। তাদের নানা প্রশ্ন থাকতে পারে, এখানে সেগুলোর উল্লেখ করছি।
এক, প্রি-আইপিও পর্যায়ে এসে ঝুঁকি কি কমতে শুরু করেছে? দুই, ‘রেভেন্যু ভিজিবিলিটি’ কি বাড়ছে? তিন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মানে ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা কি শেয়ারহোল্ডার তালিকায় যোগ দিচ্ছে?
এই সব প্রশ্নের উত্তর যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে ‘প্রাইস ডিসকভারি’ (মূল্য নির্ধারণ, বলা যেতে পারে) প্রায়শই দ্রুত হতে পারে। তবে সব সময়ই যে এমন হবে তা নয়।
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইকু্যইটি পরিচালকরা সাধারণত লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির আগেই বিনিয়োগ করতে চান। কারণ একবার শেয়ার বাজারে চলে এলে, মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আগে ‘পজিশন’ নিতে পারলে হয়তো ভবিষ্যতে বাড়তি লাভের সুযোগ থাকবে -- এমন ভাবনা বেশ চালু।
তালিকাভুক্তির পর বাজারের ট্রেন্ড যদি ভাল থাকে, যথেষ্ট লিকুইডিটি থাকে, আর খুচরো বিনিয়োগকারীদের (অর্থাৎ রিটেল ইনভেস্টরদের) অংশগ্রহণ হয়, তাহলে তো সুবিধা হবে। শেয়ারের দাম ন্যায্য মূল্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, এমন আশা করেন লগ্নিকারীরা।
প্রি-আইপিও বিনিয়োগ সব সময় লাভজনক হয়, এমন নয় কিন্তু। এখানে সঠিক বেছে নেওয়ার ব্যাপারটা (অথবা ক্ষমতা) খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগকারীরা কীভাবে বাছাই করবেন?
১. ব্যবসার স্থায়িত্ব দেখুন, যদি তা না থাকে তাহলে এড়িয়ে যেতে পারেন।
২. যে কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা, যাকে ‘কমপিটিটিভ অ্যাডভানটেজ’ বলা হয়, আছে (যেমন বাজারে লিডারশিপ বা শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক) সেই কোম্পানিকে বেছে নিতে পারেন।
৩. প্রতিবার শুধুমাত্র আইপিওতে মুনাফার জন্য লগ্নির সিদ্ধান্ত না নিলেই ভাল হয়।
৪. সংস্থার ইনকামের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ধারাবাহিকতা, যাচাই করুন।
৫. অপারেটিং মার্জিন কেমন? উন্নতি হচ্ছে কি? না কি সেখানে ভাঁটা চলছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে।
৬. প্রোমোটার ও গভর্ন্যান্সের মান কেমন? প্রি-আইপিও বিনিয়োগে অনেক সময় ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতার উপরই বাজি ধরা হয়।
শেষের এই পয়েন্টের রেশ ধরে বলি যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ আছে কি না, তা বুঝে নিতে হবে। নামী প্রাইভেট ইকু্যইটি বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আছে কি? তাহলে হয়তো ইতিমধ্যেই ডিউ ডিলিজেন্স করা হয়ে গেছে।
মনে রাখবেন, অনেক বিনিয়োগকারী তালিকাভুক্তির খুব কাছাকাছি সময় (অতিরিক্ত দামে) শেয়ার কিনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, এমন দেখা গেছে। তাই তালিকাভুক্ত সমমানের কোম্পানির (‘peer group’) ভ্যালুয়েশনের তুলনা করা জরুরি।
আমার মতে, সেরা ফলাফল সাধারণত তখনই আসে যখন বিনিয়োগকারীরা ভাল ব্যবসা চিহ্নিত করতে পারেন। তা যদি না করতে পারেন তাহলে এই বাজারে না থাকাই উচিত। পেশাদার পোর্টফোলিও পরিচালকদের হাতে ছেড়ে দিন, তার জন্য উপযুক্ত অ্যাডভাইসরের সাহায্য নিতে দুবার ভাববেন না।
