মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা। বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে জ্বালানি সংকট। এর আঁচ এসে পড়েছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলেও। এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে কালোবাজারি। প্যানিক বুকিং রুখতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এলপিজি সিলিন্ডারে চেপেছে কড়া শর্ত। যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। আকাশছোঁয়া খরচের বিকল্প হিসেবে এবার বড় ভরসা হতে চলেছে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি।
পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপ করল বিক্রম সোলার লিমিটেডের শাখা সংস্থা পাওয়ার-হাইব। সম্প্রতি তারা বাজারে নিয়ে এল তাদের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ‘ভায়ন’ (VION)। বিদ্যুৎচালিত যান থেকে শুরু করে বাড়ির ইনভার্টার— সব ক্ষেত্রেই এই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নতুন দিশা দেখাবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জলবায়ু এবং বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই ব্যাটারি তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। ভায়নের পোর্টফোলিওতে মূলত তিন ধরনের পণ্য রয়েছে। সেগুলি হল— ইনভার্টার ব্যাটারি, ইন্টিগ্রেটেড ইনভার্টার-ব্যাটারি সলিউশন এবং ই-রিকশা ব্যাটারি।
বাড়ির ব্যবহারের জন্য ১.২ কিলোওয়াট থেকে ১৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ব্যাটারি পাওয়া যাবে। ঘরের আলো-পাখা থেকে শুরু করে রান্নার জন্য ইনডাকশন, সবই ব্যবহার করা যাবে। এগুলি প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় পাঁচ গুণ হালকা। একবার চার্জ দিলে ৩ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ মিলবে। ৫ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি দিয়ে এসি-র মতো ভারী যন্ত্রও চালানো সম্ভব। এর আয়ু সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে অনেক বেশি। প্রায় ৩০০০ বার চার্জ দেওয়া যাবে। মিলবে ৬০ মাসের ওয়ারেন্টি। এর কর্মক্ষমতা প্রায় ৯৭ শতাংশ। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নেই বললেই চলে।
স্মার্ট হোমের জন্য এসেছে ‘পাওয়ার-স্ট্যাক ১.০’। এটি ব্যাটারি এবং ইনভার্টারের এক যুগলবন্দি। বাড়ির দেওয়ালে বা টেবিলে এটি অনায়াসে রাখা যাবে। ই-রিকশার জন্যও ভায়ন এনেছে বিশেষ ৫ কিলোওয়াট ব্যাটারি। যা দৈনন্দিন বাণিজ্যিক ব্যবহারের চাপ সহ্য করতে সক্ষম। এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত উন্নতমানের।
বিক্রম সোলার লিমিটেডের চেয়ারম্যান জ্ঞানেশ চৌধুরী জানান, ভারত এখন পরিবেশবান্ধব শক্তির পথে হাঁটছে। সেখানে এনার্জি স্টোরেজ বা শক্তি সঞ্চয় অত্যন্ত জরুরি। ভায়ন কেবল ব্যাটারি নয়, এটি আগামী দিনের নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস। সংস্থার সিইও অরুণ মিত্তাল বলেন, ক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিষেবার কথা মাথায় রেখেই ভায়ন তৈরি করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে ব্যাটারি সেল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই সংস্থার।
বিকল্প শক্তির এই জোয়ারে সাধারণ মানুষ কি সত্যিই সুরাহা পাবেন? উত্তর দেবে সময়। তবে প্রযুক্তির এই উদ্ভাবন যে সংকটের মেঘ কাটাতে সাহায্য করবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
