Advertisement
ধন্য হবে মানবজনম, অবশ্যই ঘুরে দেখুন ভারতের এই ৭ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মন্দির
ভারতের অন্তরাত্মাকে আত্মস্থ করতে, অবশ্যই ঘুরে দেখা উচিত ভারতের এই সাতটি মন্দির। ধর্মীয় গুরুত্ব তো রয়েছেই, পাশাপাশি এই মন্দিরগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
ভারত মন্দিরের দেশ। ভারতীয় পর্যটনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ মন্দির। এ দেশের বিস্মৃতপ্রায় ইতিহাসের অধিকাংশই সংরক্ষিত রয়েছে দেশের মন্দিরগুলির কাছে। ভারতের অন্তরাত্মাকে আত্মস্থ করতে, অবশ্যই ঘুরে দেখা উচিত ভারতের সাতটি মন্দির। ধর্মীয় গুরুত্ব তো রয়েছেই, পাশাপাশি এই মন্দিরগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে পৌঁছে দর্শনার্থী যেন নিজেকেই খুঁজে পান নতুন রূপে।
উত্তরপ্রদেশের বারাণসী শহরে গঙ্গার তীর ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। মহাদেবের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটি অন্যতম বলে বিশ্বাস করা হয়। ভক্তকূলের বিশ্বাস, এখানে দর্শন ও পূজা করলে পাপমুক্তি ঘটে। মোক্ষ লাভের পথ সুগম হয়। ভোরের মঙ্গল আরতি ও সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটককে আকর্ষণ করে। কাশীকে ভারতের আধ্যাত্মিক রাজধানীও বলা হয় তাই।
অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালা পাহাড়ে অবস্থিত তিরুপতি বালাজি মন্দির ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের উদ্দেশে নিবেদিত। ভেঙ্কটেশ্বর আদতে ভগবান শ্রী বিষ্ণুরই এক অবতার। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন, উৎসবের সময় সেই সংখ্যা কয়েক পৌঁছয় লক্ষে। ভক্তদের অনেকেই মানত পূরণ করতে মাথার চুল দান করেন, যা এই মন্দিরের অন্যতম বিশেষ ঐতিহ্য। মন্দিরের বিখ্যাত 'তিরুপতি লাড্ডু' প্রসাদও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কেদারনাথ মন্দির চারধাম যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র এবং শিবের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। এখানে পৌঁছতে কঠিন পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়, এক অর্থে যেন ভক্তি ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা দিতে হয় প্রত্যেক দর্শনার্থীকে। বরফে ঢাকা হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই মন্দির ভক্তের মনে আধ্যাত্মিকতা জাগায়। প্রতি বছর সীমিত সময়ের জন্য মন্দিরের দরজা খোলা থাকে।
তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে অবস্থিত মীনাক্ষী আম্মান মন্দির দ্রাবিড় স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। দেবী মীনাক্ষী এবং ভগবান সুন্দরেশ্বর (শিব)-এর উদ্দেশে নিবেদিত এই মন্দির তার আকাশছোঁয়া গোপুরম, অসাধারণ ভাস্কর্য এবং সূক্ষ্ম কারুকাজের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার স্তম্ভের দালান এবং সোনার পদ্মের পুকুর দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। এটি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য।
পুরীতে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরে বাস ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার। প্রতি বছর রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে অগণিত মানুষ এসে জড় হন পুরীতে। শহরের রাজপথ ধরে সুবিশাল রথ টেনে নিয়ে যাওয়ার এই ঐতিহ্য শতাব্দী প্রাচীন। এছাড়াও, মন্দিরের বিশাল রান্নাঘরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের জন্য মহাপ্রসাদ প্রস্তুত করা হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ‘মন্দির রান্নাঘর’ হিসেবে পরিচিত।
গুজরাটের আরব সাগরের তীরে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির, ভগবান শিবের প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। ইতিহাসে বহুবার আক্রমণের মুখে পড়ে ধ্বংস হলেও প্রতিবারই এই মন্দির পুনর্নির্মিত হয়েছে। তাই এটি ভারতীয় সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সমুদ্রের ধারে অবস্থিত মন্দিরের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ও সন্ধ্যার ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো’ একে ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্রের পাশাপাশি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রেও পরিণত করেছে।
পাঞ্জাবের অমৃতসরে অবস্থিত স্বর্ণমন্দির শিখ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থান। সোনার পাত দিয়ে মোড়া এই মনোরম গুরুদ্বারটিতে ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের প্রবেশ অবাধ। মন্দিরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ লঙ্গর, যেখানে প্রতিদিন লক্ষাধিক দর্শনার্থীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। পবিত্র অমৃত সরোবরের মাঝখানে অবস্থিত এই গুরুদ্বারের রাতের আলোকসজ্জায় দর্শনার্থীদের এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী করে তোলে।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:23 PM Jul 06, 2026Updated: 08:26 PM Jul 06, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
