Advertisement
রোজের এই ৬ অভ্যাসই ডেকে আনছে কিডনি ফেলিওরের সম্ভাবনা! সময় থাকতে শনাক্ত করুন
রাতের পর রাত ঘুম আসে না? কিডনির স্বাস্থ্যের উপর বড় রকম আঘাত নেমে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাতভর জেগে থাকার প্রবণতা বাড়ছে— বর্তমানে নানা সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে এই তথ্য।
হয়তো অনিয়মিত জীবন যাপন করেন না আপনি। ভুরি ভুরি ফাস্ট ফুড খান না, অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়ও এড়িয়ে চলেন। অথচ শারীরিক কিছু সমস্যার পর যখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলেন, টেস্ট রেজাল্ট দেখে জানলেন, রীতিমতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আপনার কিডনি! কেমন করে সম্ভব? হাজারও প্রশ্ন ভিড় করল মনে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক নয়! আমাদের রোজকার নানা অভ্যেসই ক্ষতি করছে বৃক্কের।
সারাদিনের কাজের মধ্যে জল পানের মতো সাধারণ কাজকে গুরুত্ব দেন না একেবারেই— এমন অনেকেই রয়েছেন। কিন্তু জল পান কম হলে, বৃক্কে পাথর জমতে পারে, যা সরাতে চাইলে অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই। শরীরে জলের অভাব হলে, কিডনির পক্ষে দেহ থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন সরানো সম্ভব হয় না। ফলে ভয়াবহ সংক্রমণের পথ প্রশস্ত হয়। প্রত্যেকদিন নিয়ম মেনে জল পান করা উচিত সে কারণেই।
খাবারে লবণ থাকলেও পাতের পাশে কাঁচা লবণ নিয়ে, মেখে খাওয়ার অভ্যেস থাকে অনেকেরই। বাড়তি লবণের স্বাদ ছাড়া খাবার গিলতেই পারেন না তাঁরা। এছাড়া, প্যাকেটজাত চিপস, স্ন্যাকস কিংবা ইনস্ট্যান্ট নুডলসেও প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা শরীরে লবণের মাত্রা বাড়ায়। এই অভ্যেস আমাদের অজান্তেই বৃক্কের ক্ষতি করে। কারণ রক্তে লবণের মাত্রা বাড়লে, পাল্লা দিয়ে বাড়ে রক্তচাপ, যা বৃক্কের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে।
সামান্য গা ব্যথা কিংবা জ্বর জ্বর-ভাব লাগলেই পেইনকিলার মুখে দেন, এমন অনেকেই আছেন। এতে গায়ের ব্যথা কমতে পারে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে কিডনির। আপাতভাবে এই অভ্যাসে ভুল কিছু নেই মনে হলেও, মাত্রাতিরিক্ত পেইনকিলার খেলে কিডনি ফেল-ও হতে পারে ঘটনাবিশেষে! চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে পেইনকিলার খেলে, রক্তের গতিবেগ প্রভাবিত হতে পারে আর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৃক্কের উপর।
গরম লাগলেই নুন-চিনি জলের বদলে কোল্ড ড্রিঙ্কস কিংবা সোডা ওয়াটার পান করেন কি? কিডনির ক্ষতি হতে পারে এতেও। অথবা, দোকান থেকে কেনা পানীয় নয়, বাড়িতেই বারবার চা-কফি খেয়ে থাকেন। আর প্রতিবারই প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশান সেসবে। নুন-চিনির জলেও কিন্তু চিনি মেশানোর নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। শরীরে বিপুল পরিমাণে চিনি প্রবেশ করলে, তা থেকে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস এবং কিডনির রোগ হতে পারে।
বাইরের চাউমিন, এগরোল খান না, কিন্তু প্যাকেটে ভরা চিপস, বিস্কুট, চকোলেট দেদার খেয়ে ফেলেন? ফল আলাদা হবে না মোটেই। এই সমস্ত খাবারই উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করতে পারে। ডায়াবেটিসের ভয় তো থাকেই। কিন্তু দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন যারা, তাঁদের ক্ষেত্রে কিডনি ফেলিওরের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই সময় থাকতেই জীবন থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত এই জাতীয় খাবার।
যে কোনও কারণেই হোক, রাতের পর রাত ঘুম আসে না? কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর বড় রকম আঘাত নেমে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাতভর জেগে থাকার প্রবণতা বাড়ছে— বর্তমানে নানা সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে এই তথ্য। কেউ হয়তো অফিসের কাজ করেন, কেউ আবার শুধুমাত্র ফোন স্ক্রোল করেই পার করে দেন রাতের পর রাত। আর এতে নিঃশব্দেই ব্যহত হতে থাকে বৃক্কের স্বাভাবিক ক্রিয়া।
সময় থাকতেই সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি সে জন্য। প্রতিদিন নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, যথাসম্ভব বাদ দিন প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া। সময়ে ঘুমাতে যান, সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। প্রাথমিকভাবে কঠিন লাগলেও অভ্যেস হয়ে গেলে আর বাড়তি অসুবিধা হবে না। এতে যে কেবল কিডনি ভালো থাকবে, তাই নয়। সামগ্রিকভাবেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 07:50 PM May 23, 2026Updated: 07:50 PM May 23, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
