Advertisement
তুলে নিয়ে যায় পুলিশ, কখনও ফেরেননি! 'সতলুজ' ছবির যশবন্ত সিং কালরা আসলে কে ছিলেন?
৩ বছরের অপেক্ষার পর ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। কিন্তু দু'দিনের মধ্যেই সেটির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
৩ জুলাই ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছিল 'সতলুজ'। সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি এই ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। দীর্ঘ তিন বছরের টালবাহানার পর মুক্তির আলো দেখেও ফের দর্শকদের সামনে থেকে 'অদৃশ্য' এই ছবি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ছবির মূল চরিত্র যশবন্ত সিং খালরা। জানেন কে এই বিতর্কিত চরিত্র?
১৯৮৪ সালের 'অপারেশন ব্লু স্টার'-এর পর ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা। আর তারপর শুরু হওয়া শিখ দাঙ্গার পরই পাঞ্জাবে উগ্রপন্থা দমনে পুলিশের হাতে আসে প্রভূত ক্ষমতা। খালরার দাবি ছিল, এই সময়ে প্রায় ২৫ হাজার যুবককে এনকাউন্টার করা হয়েছে। তারপর দেহগুলি 'বেওয়ারিশ লাশ' হিসেবেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্মশান-সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেরিয়ে এই সংক্রান্ত বহু তথ্য তাঁর হাতে এসেছে বলে দাবি করেন খালরা।
১৯৯৫ সালের এপ্রিল মাসে কানাডায় গিয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেন খালরা। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। সেই সময় অনেকেই তাঁকে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু খালরা পাঞ্জাবে ফিরে এসে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেবছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তিনি চিরতরে হারিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে সিবিআই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল, থানায় তাঁর উপরে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল। যার ফলে পুলিশ হেফাজতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন খালরা। তাঁর স্ত্রী পরমজিৎ কৌর খালরা আইনি লড়াই জারি রাখেন। ২০০৫ সালে সিবিআই আদালতের রায়ে ৬ পুলিশকর্তা দোষী সাব্যস্ত হন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বহাল রাখে।
খালরার শেষ রেকর্ড হওয়া ভাষণে তিনি যা বলেছিলেন, তা আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ''একটা উপকথা আছে। সূর্য অস্ত গেলে নিজের শক্তি জাহির করার চেষ্টায় পৃথিবীতে তার আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছিল অন্ধকার। কিন্তু বহু দূরে দেখা যায়, এক কুঁড়েঘরে তখনও একটি প্রদীপ জ্বলছে! সেই প্রদীপ বলেছিল, আমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই।''
প্রদীপ কীভাবে অন্ধকারকে হারিয়ে দিতে পেরেছে সেটাই খালরার বক্তব্যের বিষয় ছিল। খালরা বিষয়টিকে পাঞ্জাবের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আজ যখন অন্ধকার তার সর্বশক্তি দিয়ে সত্যকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করছে, তখন অন্তত আত্মমর্যাদাশীল পাঞ্জাব একটি প্রদীপের মতো সেই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।” এত বছর পরেও চর্চায় রয়েছে খালরার জীবন। বিতর্কের আগুন যে নেভেনি তা বুঝিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:03 PM Jul 07, 2026Updated: 08:03 PM Jul 07, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
