Advertisement
বাঁশের বর্শায় অনুশীলন, ভেঙেছেন নীরজের রেকর্ড, ভারতীয় জ্যাভলিনের 'ভবিষ্যৎ' যশবীর কে?
নীরজের মন্ত্রেই ব্রোঞ্জ জয় যশবীরের। সতীর্থকে কী বলেছিলেন ভারতের সোনার ছেলে?
কমনওয়েলথ গেমসের জ্যাভলিনে ইতিহাস গড়েছে ভারত। এই প্রথম এই ইভেন্টে জোড়া পদক জিতে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। নীরজ চোপড়া যে পদক জিতবেন সেটা প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু নীরজের সঙ্গে যিনি চমক দিলেন তাঁর নাম যশবীর সিং। সেভাবে কেউ তাঁকে ধর্তব্যের মধ্যে না রাখলেও শেষবেলায় চমক দিলেন তিনি।
অ্যান্ডারসন পিটার্স, আর্শাদ নাদিম এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কেশর্ন ওয়ালকটের মতো তারকাদের পিছনে ফেলে পদকের মঞ্চে উঠে আসেন ভারতের এই তরুণ জ্যাভলিন থ্রোয়ার। ফলে নীরজের পাশে পোডিয়ামে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন তিনি। ফলে নীরজের সাফল্যের পাশাপাশি যশবীরের উত্থানও হয়ে উঠেছে এই প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় গল্প।
ফাইনালের শেষ থ্রো পর্যন্ত যশবীরকে পদকের অন্যতম দাবিদার বলে মনে হচ্ছিল না। প্রথম ও চতুর্থ প্রচেষ্টা ফাউল হয়েছিল। তাঁর সেরা থ্রো ছিল ৮১.৩৩ মিটার। তখন মনে হচ্ছিল ব্রোঞ্জের জন্য এই দূরত্ব যথেষ্ট হবে না। কিন্তু তারপরই আসল চমকটা দেন তিনি। নিজের শেষ থ্রো-তে যশবীর জ্যাভলিন ছোড়েন ৮৫.৪১ মিটার। অর্থাৎ নীরজের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।
যশবীরের উঠে আসার গল্পটা বেশ চমকপ্রদ। রাজস্থানের জয়পুরের ছেলে যশবীর শুরুর দিকে জ্যাভলিন ছোড়ায় খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। তিনি খেলতেন বাস্কেটবল। পরে স্কুলজীবনে জ্যাভলিনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, ‘প্রথমে ফিটনেসের জন্য বাস্কেটবল খেলতাম। তারপর জ্যাভলিনে অনুশীলন শুরু করি।"
কেরিয়ারের শুরুর দিকে অনুশীলনের জন্য সরঞ্জাম কিনতে পারতেন না। তাঁর বাবা রাই সিং অবশ্য নিজে জাতীয় স্তরের প্রাক্তন জ্যাভলিন প্লেয়ার, ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনিই কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব সব সময়ে বুঝিয়েছেন। কিন্তু অর্থের সংস্থান ছিল না। যশবীর শুরুতে অনুশীলন করতেন বাশের বর্শা নিয়ে। পরে অবশ্য খেলার সামগ্রী পান।
যশবীর অবশ্য শুরু থেকেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন। যশ প্রথম নজরে আসেন ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফেডারেশন কাপে নীরজ চোপড়ার মিট রেকর্ড ভেঙে। ২০২২ সালে তিনি সেই গুটিকয়েক জ্যাভলিন থ্রোয়ারদের মধ্যে একজন যারা ৮০ মিটারের বেশি বর্শা ছোড়েন।এর পর ধারাবাহিক ভাবে সিনিয়র স্তরে ভালো পারফরম্যান্স করে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। এর আগে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে ৮২.৫৭ মিটার থ্রো করেন। সেটাই ছিল যশবীরের সেরা পারফরম্যান্স।
ফাইনালে নিজের সব রেকর্ড ভেঙেছেন যশবীর। সেই রেকর্ড ভাঙার নেপথ্যেও ছিল নীরজের মন্ত্রেই। ভারতের সোনার ছেলে নিজের জুনিয়রকে ফাইনালের মঞ্চে বলছিলেন, নিজের সেরাটা নিংড়ে দিতে। নীরজ বলেন, ‘আমি ওকে যোগ্যতা অর্জন পর্বেও একই কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম, মার ঝটকা। নিজের সবটা উজাড় করে দাও। ফাইনালেও বলেছিলাম, এটাই শেষ থ্রো।"
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:54 PM Aug 01, 2026Updated: 04:54 PM Aug 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
