Advertisement
ইনস্টাগ্রামে আলাপ, ৪ বছরের প্রেম জঙ্গি হামিম ও অর্পিতার, কী কাজ ছিল তরুণীর?
সরাসরি পাক হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অর্পিতা ও হামিমের।
জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে একাধিক সোশাল মিডিয়ায় ঘাপটি মেরে বসে থাকত জঙ্গি হামিম মণ্ডল। তার ফাঁকে অর্পিতা সরকারের দেখা। বছর চারেক আগে ইনস্টাগ্রামে আলাপ। ধীরে ধীরে এগোতে থাকে সম্পর্ক। হামিমের জঙ্গি কার্যকলাপের শরিক হয়ে ওঠে অর্পিতা। একসঙ্গে শুরু করে 'মিশন'। শনিবার এসটিফের আইজি গৌরব শর্মা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান।
বৃহস্পতিবার বর্ধমানের অভিজাত আবাসন লাগোয়া জিম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামিম মণ্ডলকে। তার শরীরচর্চার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে ভাইরাল। জানা গিয়েছে, হামিম হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা। তার বাবা পেশায় দর্জি। পারিবারিক আয়ের উৎস পোশাক কারখানা। সম্প্রতি খাগড়াগড় থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে বর্ধমানের ওই অভিজাত আবাসনে ভাড়া থাকতে শুরু করে। যদিও প্রতিবেশীদের দাবি, তাকে সেভাবে দেখা যেত না হামিমকে।
গোপন সূত্রে বেঙ্গল এসটিএফ বেশ কয়েকজন হ্যান্ডলারের খোঁজ পায়। সেই অনুযায়ী তদন্ত করে প্রথমে ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকারকে ট্র্যাক করে। হামিমের সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে কথা বলত অর্পিতা। মাঝে মাঝে দেখা সাক্ষাতও করত দু'জনে। সেই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার হামিমকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। শুক্রবার ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতাকে পাকড়াও করে এসটিএফ। শনিবার সকালে তাকে বর্ধমান থানায় আনা হয়। তোলা হয় আদালতে।
সরাসরি পাক হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল অর্পিতা ও হামিমের। ফোনেও পাক হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে কথা হত অর্পিতার। প্রেমিকাকে 'হানিট্র্যাপ' হিসাবে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ভারতে জঙ্গি জাল ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল হামিমের। থ্রিলার ওয়েব সিরিজের মতো প্রভাবশালীদের প্রেমের জালে ফাঁসানোই ছিল প্রথম লক্ষ্য। তারপর তাঁকে অপহরণ করার পরিকল্পনা ছিল। সূত্রের খবর, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে রীতিমতো রেইকি করত তারা।
তাদের টার্গেটে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোথায় যেতেন, কী করতেন - সে সমস্ত খোঁজখবর রাখত তারা। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে টার্গেট করেছিল। মন্ত্রীপুত্রকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে অপহরণই লক্ষ্য ছিল হামিম ও অর্পিতার।
ঠিক কীভাবে হামিম ও অর্পিতা কাজ করবে, সে নির্দেশ আসত পাকিস্তান থেকে। শেহজাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্য দু'জনে। হামিমের কাজ ছিল সোশাল মিডিয়ায় যুবসম্প্রদায়ের মগজধোলাই করা। পাক হ্যান্ডেলারদের মৌলবাদী শিক্ষায় তার নিজেও মগজধোলাই হয়।
আর ঠিক কী কী ছক ছিল দু'জনের, কতদূরই বা জাল বিস্তার করেছিল হামিম ও অর্পিতা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দফায় দফায় জেরা করা হয়েছে হামিমকে। অর্পিতাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চান তদন্তকারীরা। এসটিএফের নজরে রানা, আবির, উজায়ের, জাঠ নামে আরও চার হ্যান্ডেলার। তাদের সঙ্গে হামিমের কথাবার্তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
Published By: Sayani SenPosted: 05:02 PM Aug 01, 2026Updated: 05:14 PM Aug 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
