Advertisement
আমেরিকায় মূল্যবৃদ্ধি ৫০%, ১০ দিনে চারবার জ্বালানির দাম বাড়লেও আপাতত স্বস্তিতে ভারত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কার্যত গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজারেই পড়েছে। আর সেটার খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকেই।
১০ দিনে চতুর্থবার বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। দেশজুড়ে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই একধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা প্রতি লিটার বেড়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। তারপর তিন দফায় লিটারপিছু মোট ৪ টাকা করে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে। অর্থাৎ ১০ দিনের মধ্যে ৭টাকা দাম বেড়েছে জ্বালানির দাম। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা, আগামী দিনে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কার্যত গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজারেই পড়েছে। আর সেটার খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকেই। একাধিক প্রথম সারির দেশেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম অনেকটা বেড়েছে। হিসাব বলছে যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকাতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৪১ ও ৪৮ শতাংশ। ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো প্রথম সারির দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৩১ ও ৩৪ শতাংশ। জার্মানিতে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১৯ শতাংশ।
স্রেফ পশ্চিমি দুনিয়া নয়, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতেও হুহু করে বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম। চিনে প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানে যথাক্রমে ৪১ এবং ৫৫ শতাংশ বেড়েছে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম। জাপানে জ্বালানি তেলের দাম ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও বৃদ্ধিটা উদ্বেগজনক। সেদেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।
সেই তুলনায় এখনও পর্যন্ত ভারতে পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার খুবই কম। গত চারবছর পেট্রল এবং ডিজেলের দাম বাড়েনি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর সেই পরিস্থিতিটা পালটাতে থাকে। প্রাথমিকভাবে তেল বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি খানিকটা লোকসানে চলেছে। সম্ভবত নির্বাচনের কথা ভেবেই প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর পথটা এড়িয়ে চলা হচ্ছিল। কিন্তু ভোট মিটতেই আমজনতার হেঁসেলে কোপ পড়েছে। আপাতত ভারতে পেট্রপণ্যের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এখানেই শেষ নয়। ভারতকে চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। আপাতত হরমুজ প্রণালী নিয়ে জট কাটার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও ভারতে জ্বালানি তেলের দাম কমা দূর, বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। একধাপে নয়, দফায় দফায় বাড়ানো হতে পারে তেলের দাম, অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।
হরমুজ সমস্যা মিটে গেলেও কেন ভারতে বাড়বে পেট্রল-ডিজেলের দাম? আসলে যুদ্ধের পর থেকেই বিভিন্ন দেশে দাম বেড়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই দামে লাগাম টেনে রাখা হয়েছিল। নির্বাচন মিটতে ধীরে ধীরে দাম বাড়ানোর পর্ব শুরু করেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, যুদ্ধের জেরে সরবরাহে টান এবং তারপরের লোকসান-সমস্ত কিছু সামাল দিতে লিটারপিছু জ্বালানির দাম অন্তত ৩৩ টাকা করে বাড়াতে চায় তেল বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি।
ইতিমধ্যেই ৭টাকা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তেল বিক্রেতাদের লোকসান সামাল দিতে লিটারপিছু দাম আরও ২৪ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেটা একধাক্কায় করলে সমালোচনার মুখে পড়বে কেন্দ্র। ফলে ধাপে ধাপে দামবৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল। শেষ পর্যন্ত এই হিসাবে যদি পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ে, তাহলে অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে ভারতের তেলের দামবৃদ্ধিও একই সারিতে চলে আসবে। অন্তত ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি হতে পারে জ্বালানি তেলের দামে।
পেট্রল-ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে আমজনতার ভোগান্তিও বাড়ছে প্রবলভাবে। দৈনন্দিন খাবার অর্থাৎ মাছ, দুধ, সবজি, ফল, চাল, ডালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। একইসঙ্গে যানবাহন চালানোর খরচ বেড়েছে। আমজনতার ভোগান্তি নিয়ে চিন্তায় কেন্দ্র। অন্যদিকে দাম না বাড়ানোয় তেল বিক্রতা সংস্থাগুলিও লোকসানের শিকার। কোন পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা দরকার? উত্তর খুঁজতে উভয় সংকটে মোদি সরকার।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 06:06 PM May 25, 2026Updated: 06:20 PM May 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
