Advertisement
ভূতুড়ে হাঙর থেকে 'ডেথ বল স্পঞ্জ', মহাসমুদ্রের নিকষ অন্ধকারে মিলল ১১২১ কিম্ভুত প্রাণীর হদিশ!
সমুদ্রগর্ভে কার্যত 'ভিনগ্রহী' হাজারেরও বেশি কিম্ভুত প্রাণীর হদিশ পেলেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের চেনা চোখে এইসব প্রাণী শুধু দেখতেই বিদঘুটে নয়, তাদের আচরণও বড়ো অদ্ভুত।
তারা অন্ধকারের জীব। মহাসমুদ্রের নিকষ আঁধারে এতদিন ধরে ফুলেফেঁপে উঠেছিল। এই পৃথিবী তাদের ঘরবাড়ি হলেও এতদিন মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে অজ্ঞাত গহ্বর ছিল তাদের আস্তানা। অবশেষে সমুদ্রগর্ভে কার্যত 'ভিনগ্রহী' হাজারেরও বেশি কিম্ভুত প্রাণীর হদিশ পেলেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের চেনা চোখে এইসব প্রাণী শুধু দেখতেই বিদঘুটে নয়, তাদের আচরণও বড়ো অদ্ভুত।
বিরাট এই আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে ওশান সেনসাস নামে এক সংস্থা। সমুদ্রের গভীরে অজ্ঞাত প্রাণীদের সন্ধানে নেমেছিল সংস্থাটি। তাদের সহযোগী ছিল জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও ব্রিটেনের নেকটন। ৩ বছর ধরে বিশ্বের ৮৫টির বেশি দেশের হাজারেরও বেশি গবেষক ও সমুদ্র বিজ্ঞানী অন্বেষণ চালান। চলতি বছর সেই অভিযানে খোঁজ মেলে ১১২১টি নয়া প্রাণীর। দাবি করা হচ্ছে, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছরে নতুন প্রজাতির প্রাণীর খোঁজ ৫৪ শতাংশ বেড়েছে।
যে সব প্রাণীর হদিশ মিলেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্রিস্টল ওয়ার্ম। জাপানের সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ২৬০০ ফুট নিচে খোঁজ পাওয়া এই প্রাণীর শরীর মোড়া কাঁচের স্পঞ্জে। এদের কঙ্কাল সিলিকা দিয়ে তৈরি, যাদুকরী কাঁচও সেই একই উপাদানে নির্মিত। গভীর জলে এগুলিকে স্বচ্ছ জালের মতো দেখায়। প্রাণীটি যেখানে বাস করে সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছয় না। অদ্ভুত এই প্রাণীর নাম দেওয়া হয়েছে 'ডালহৌসিয়েলা ইয়াবুকি'।
অস্ট্রেলিয়ার কোরাল সি মেরিন পার্কে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৭০০ ফুট নিচে দেখা মিলেছে ভয়ঙ্কর 'ঘোস্ট শার্ক'-এর। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম 'কাইমেরা'। এটি হাঙর ও রে ফিশ-এর ঘনিষ্ঠ। প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে মূল হাঙর প্রজাতি থেকে এদের বিবর্তনের পথ আলাদা হয়। ডাইনোসরদেরও আগে থেকে সমুদ্রে বাস এদের। প্রাণীটির গায়ের রং ফ্যাকাসে, ভিনগ্রহীদের মতো চোখ ও অদ্ভুত শারীরিক গঠনের জন্য এদের 'ভূতুড়ে হাঙর' নামে ডাকা হয়।
ভয়ংকর আর এক জীব হল ‘ডেথ বল স্পঞ্জ’। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জে এদের খোঁজ মিলেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট নিচে বাস করে এই মাংসাশী স্পঞ্জ। এরা জল থেকে ক্ষুদ্র প্রাণী ধরে নিজেদের জীবনধারন করে। স্পঞ্জটিতে রয়েছে ভেলক্রোর মতো আণুবীক্ষণিক হুক। যখনই কোনও ছোট প্রাণী এর সংস্পর্শে আসে, এর হুকগুলি সেটি আঁকড়ে ধরে। শিকারকে পেঁচিয়ে জীবন্ত অবস্থায় খেয়ে ফেলে।
তিমুর-লেস্তে অঞ্চলে বিজ্ঞানীরা ৩ সেন্টিমিটার লম্বা উজ্জ্বল কমলা রঙের একটি রিবন ওয়ার্ম বা ফিতা-কৃমির খোঁজ পেয়েছেন। এর উজ্জ্বল রংয়ের কারণ হল, এর ভেতরে থাকা শক্তিশালী বিষাক্ত রাসায়নিক। যা প্রাণীটির আত্মরক্ষার প্রধান অস্ত্র। এই কৃমির বিষাক্ত রাসায়নিক আলঝেইমার ও সিজোফ্রেনিয়া রোগের চিকিৎসার সম্ভাব্য উপকরণ বলে মনে করা হচ্ছে। যা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
নয়া প্রজাতির তালিকায় রয়েছে সি পেন। এদের দেখতে কুইল পেনের মতো হলেও, এগুলো আসলে কলোনিয়াল কোরাল। পাথরের সঙ্গে লেগে থাকা রিফ-গঠনকারী কোরালের মতো নয়, সি পেন গভীর সমুদ্রের তলদেশে গাছের মতো কাজ করে। এরা দলগত ভাবে থাকে। যেখানে কেউ কাঠামোটিকে সোজা রাখে, কেউ স্রোত থেকে ফিল্টার ফিডিং (জলে থাকা জৈব পদার্থ, খাদ্যকণা বা ছোট জীব খেয়ে পুষ্টি গ্রহণ) করে।
অস্ট্রেলিয়ার কোরাল দ্বীপে খোঁজ মিলেছে ডোয়ার্ফ গোবি নামে অদ্ভুত এক মাছের। যার গায়ে রংয়ের মেলা। হলুদ, কমলা, সাদা ও সবুজ রঙে মেশানো এদের গোটা শরীর। চোখে কালোর সঙ্গে লাল রঙের বাহার। এখানেই শেষ নয়, ফ্রান্সের মার্সেই উপকূলে এক সামুদ্রিক গুহার মধ্যে সন্ধান মিলেছে 'মেডিটেরানেয়ান শ্রিম্প' বা ভূমধ্যসাগরীয় চিংড়ির। অদ্ভুত এই চিংড়ির স্বচ্ছ শরীরের উপর রয়েছে লাল ডোরা দাগ।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 04:29 PM May 25, 2026Updated: 07:05 PM May 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
