Advertisement
২২ বছর পর লিগজয়, মরশুমজুড়ে কেমন খেললেন লাল-হলুদ তারকারা, দেখে নিন মার্কশিট
স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোর কোচিংয়ে লাল-হলুদ ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন।
২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ভারতসেরার মুকুট মাথায় তুলেছে ইস্টবেঙ্গল। এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল দলগত সংহতি, দুরন্ত পরিকল্পনা আর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের নিখুঁত মেলবন্ধন। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোর কোচিংয়ে লাল-হলুদ ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন। মশাল বাহিনীর কে কেমন খেললেন, রইল তার মার্কশিট।
গোলপোস্টের নিচে প্রভসুখান সিং গিল ছিলেন ভরসার প্রতীক। ৫টি ক্লিন শিট এবং মাত্র ১১টি গোল হজম করে তিনি রক্ষণভাগকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। ১১৭০ মিনিট মাঠে থেকেছেন। আগের চেয়ে অনেক পরিণত, অনেক বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাহসী গোলকিপিং করেছেন গিল। ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটার নেপথ্যে তাঁর পায়ের ছোঁয়া কাজ করেছে। ডার্বিতে কামিন্সের পাসে ম্যাকলারেনের শট বাঁচিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে সঞ্জীবনী এনে দিয়েছিলেন তিনিই। ৯/১০।
আনোয়ার আলি ছিলেন অনন্য। ১২ ম্যাচে ৩ গোল এবং ১ অ্যাসিস্ট। ডিফেন্ডার হয়েও আক্রমণে অবদান রাখার পাশাপাশি একবারও কার্ড না দেখে শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন। মাঠে ছিলেন ৯৮২ মিনিট। তাঁকে ১০-এ ৯ দেওয়া যায়। ৭ ম্যাচে ৩ গোলের পাশাপাশি কেভিন সিবিলে অ্যাসিস্ট করেছেন ১টি। মহম্মদ রাকিপও নিজেদের দায়িত্ব দারুণভাবে সামলেছেন। ১১ ম্যাচে মাঠে ছিলেন ৭৭৪ মিনিট। দু'জন পাবেন ৮ ও ৭।
সোনার বল পাওয়া মিগুয়েল ফিগুয়েরা ছিলেন মিডফিল্ডে প্রাণভোমরা। ২ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট করে আক্রমণ গড়ার মূল কারিগর হিসাবে প্রমাণ করেছেন। ১২ ম্যাচে মাঠে ছিলেন ৯৫৭ মিনিট। হলুদ কার্ড দেখেছেন ৩টি। তিনি ১০-এ পাবেন ৯। জয় গুপ্তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রক্ষণভাগে তাঁর উপস্থিতি এবং একটি অ্যাসিস্ট ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করেছে। ১১ ম্যাচে মাঠে ছিলেন ৫৪৭ মিনিট। ৩টি হলুদ কার্ড। তিনি পাবেন ৬।
জিকসন সিং পুরো মরশুমে মিডফিল্ডে নির্ভরতার জুগিয়েছেন। ১৩ ম্যাচে ১১০২ মিনিট খেলে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কার্ড ছাড়াই দলকে সামলেছেন। অন্যদিকে বিপিন সিং আক্রমণে ছিলেন ধারালো। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন, সঙ্গে ১০৮৭ মিনিট মাঠে থেকে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। দু'জন পাবেন ৮ ও ৭।
মিডফিল্ডে স্থিরতা এনে মহম্মদ রশিদ ১২ ম্যাচে ৯৭১ মিনিট খেলে ১ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন। যদিও ৩টি হলুদ কার্ড দেখেছেন। তাঁকে ১০-এর মধ্যে ৮ দেওয়া যথার্থ। পিভি বিষ্ণু ১৩ ম্যাচে ৮৩২ মিনিটে ১ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে আক্রমণে গতি এনেছেন। ২টি হলুদ কার্ড-সহ তাঁর পারফরম্যান্সে ৭ নম্বর প্রাপ্য।
১১ গোল করে সোনার বুট জিতেছেন ইউসুফ ইজেজারি। ৮৪১ মিনিটে মাঠে থেকেও কোনও মরশুম শেষ করেছেন কোনও কার্ড না দেখে। প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করার নেপথ্যে তাই ১০-এর মধ্যে তাঁর প্রাপ্য ৯। অন্যদিকে, সৌভিক চক্রবর্তী সীমিত ৩৫৩ মিনিটে ১ গোল করলেও ৪টি হলুদ কার্ড দেখেছেন। তাঁর প্রাপ্তি ৬।
নন্দকুমার সেকার সীমিত সুযোগেও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছেন। ১০ ম্যাচে মাত্র ৩৫৯ মিনিট খেলেই ৩ গোল করে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। একটি হলুদ কার্ড-সহ তাঁর পারফরম্যান্সে ৭ যথাযথ। অন্যদিকে, এডমুন্ড লালরিনডিকা ১১ ম্যাচে ৬১৫ মিনিটে ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। ডার্বিতেও একটি গোল করেছেন। ২টি হলুদ কার্ড সত্ত্বেও ৮ প্রাপ্য।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 06:41 PM May 22, 2026Updated: 07:33 PM May 22, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
