Advertisement
২০২৯-এর আগেই লোকসভার সাংসদ সংখ্যা ৮১৬! বাংলা-সহ কোন রাজ্যে কত বাড়তে পারে আসন?
সব ঠিক থাকলে খুব তাড়াতাড়িই লোকসভার আসনের পুনর্বিন্যাস করবে কেন্দ্র। সংসদের নতুন ভবন উদ্বোধনের দিনই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আসলে দেশের সাংসদসংখ্যা বাড়ানোটা মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগেই সেই কাজটা সেরে ফেলতে চায় কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যে দ্রুর কাজ শুরু করতে চলেছে মোদি সরকার।
লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অধিকার খর্ব করতে পারে বিজেপি। বহুদিন আগে থেকেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি। কংগ্রেস তথা অন্য বিরোধীদের আশঙ্কা, ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাস করে নেবে বিজেপি।
আসলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি নতুন আসন বণ্টন করা হয় তাহলে দক্ষিণ ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলির তুলনায় গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্র সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, কোনও রাজ্যকে বঞ্চিত করা হবে না। বর্তমানে যে আসনসংখ্যা রয়েছে, সেটাকেই ৫০ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে।
সাধারণত, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হয়। কিন্তু ২০১১ সালের পর আর জনগণনা হয়নি। এ বছর যে জনগণনা শুরু হবে, সেটা শেষ হওয়ার পর আসন পুনর্বিন্যাস করতে গেলে ২০২৯ সালে সেটা কার্যকর করা যাবে না। তাই ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস চাইছে কেন্দ্র।
শেষবার ১৯৭৩ সালে লোকসভার (Lok Sabha) আসনসংখ্যা বেড়েছিল। ১৯৭১ সালের জনগণনার পর ১৯৭৩ সালে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০২ থেকে বাড়িয়ে ৫৪৫ করা হয়। তারপর থেকে প্রায় ৫ দশক এই আসন সংখ্যায় কোনও বদল আনা হয়নি। প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন একবার লোকসভার আসনসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, সার্বিকভাবে সব রাজ্যের লোকসভার আসন ১৫০ শতাংশ হবে। সেই হিসাবে লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করতে চাইছে মোদি সরকার। আসন সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে মহিলা সংরক্ষণ আইন। যার ফলে ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
৫০ শতাংশের হিসেবে এদিক ওদিক না হলে, লোকসভার আসনসংখ্যা যদি বেড়ে ৮১৬ হয়, সেক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের মোট আসন হবে ১২০টি, যার মধ্যে ৪০টি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মহারাষ্ট্রের মোট লোকসভা আসন ৪৮ থেকে বেড়ে ৭২ হয়ে যাবে, যার মধ্যে ২৪টি সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
বাংলার লোকসভা আসন ৪২ থেকে বেড়ে হবে ৬৩। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ২১টি আসন। রাজ্যের একাধিক লোকসভা কেন্দ্রে সেক্ষেত্রে ভেঙে দেওয়া হবে। কলকাতাতেও লোকসভার আসনসংখ্যা হবে ৩। বিহারের আসনসংখ্যাও একই ভাবে বেড়ে হতে পারে ৬০।
তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। বর্তমানে তাদের লোকসভা আসন ৩৯, যা বেড়ে ৫৯ হতে পারে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে ২০টি আসন। মধ্যপ্রদেশের আসনসংখ্যা বেড়ে ২৯ থেকে ৪৪ হতে পারে।
কিছু কিছু কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসনসংখ্যা ১ থেকে বেড়ে ২ হতে পারে। তবে সেই নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে। গোয়া, মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ২টির বদলে ৩টি করে লোকসভার আসন হতে পারে। একই ভাবে আসন সংখ্যা বাড়তে পারে অন্য রাজ্যগুলিতেও।
আসন সংখ্যার অসম বণ্টন নিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কম জনসংখ্যার জন্য সমস্যা হবে না। আসলে এই আসন পুনর্বিন্যাস করতে গেলে সংসদে সংবিধান সংশোধনী আইন আনতে হবে। সেটার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তাই বিরোধীদেরও আস্থা অর্জন করতে চায় মোদি সরকার।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:34 PM Mar 24, 2026Updated: 04:34 PM Mar 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
