Advertisement
রুপোলি পর্দায় 'রামধনু'র উৎসব! সমকামী চরিত্রে চমকে দিয়েছেন ঋতুপর্ণ থেকে মনোজ-সেতুপতিরা
ঋতুপর্ণর সুবাদেই পর্দায় 'রামধনু'র উৎসব দেখেছিল বাঙালি। 'প্রাইড মান্থ'-এ ফিরে দেখা যাক সাড়া ফেলে দেওয়া সেসব 'প্রান্তিক চরিত্র'দের।
প্রাইড মান্থে রইল মেনস্ট্রিম সিনেমার স্মরণীয় কয়েক কুইয়ার চরিত্র কাহন। এই ফিরে দেখা ঋতুপর্ণ ঘোষ ব্যতীত অসম্ভব। তাঁর পরিচালিত ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘মেমরিজ ইন মার্চ’ কিংবা অভিনীত ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’ আজও সিনেব্যকরণ। কারণ, এই তিন ছবিতেই ঋতুপর্ণর জীবনের ছায়া রয়েছে। ঋতুপর্ণর সুবাদেই বাঙালি সেই প্রথম বাণিজ্যিক ছবিতে ভিন্ন যৌনতাকে অস্বস্তি সত্ত্বেও গ্রহণ করেছিল।
ভারতীয় ছবিতে সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামী নারী-পুরুষ ক্রমশ চিত্রনাট্যের মুখ্য অংশ হয়ে উঠছেন। বাংলায় ‘নগরকীর্তন’, ‘সমান্তরাল’, বলা যায় ‘দ্বিতীয় পুরুষ’-এর কথাও। তবে টলিউডের মেনস্ট্রিম অভিনেতারা এখনও কুইয়ার চরিত্রে সেভাবে স্বচ্ছন্দ নন! তুলনায় বলিউড দেখেছে ‘এক লড়কি কো দেখা তো...’, ‘বধাই দো’র মতো ছবি। মালয়ালমে রয়েছে ‘কোবাল্ট ব্লু’, ‘মুথুন’ বা মারাঠি ছবি ‘সবর বোন্ডা’।
‘শ্রীনিবাস রামচন্দ্র সিরাস’, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যিনি সমকামী– এমন এক চরিত্রে মনোজ বাজপেয়ীর অভিনয় বারবার সমাজকে মনে করায়, সংখ্যালঘু হয়ে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার কী যন্ত্রণা। সেসময় দেশে এলজিবিটিকিউ প্লাসদের প্রতি আইনের সমর্থনও ছিল না। ছবিতে মৃদুভাষী, একাকী শিক্ষক সিরাস কেবল নিজের লিঙ্গপরিচয়ের জন্য যতটা অপমানিত ও বিব্রত হয়েছিলেন– মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক শিক্ষা ও রুচির নিরিখে দেশ কতটা পিছিয়ে।
নীরজ ঘাওয়ান পরিচালিত ‘গিলি পুচ্চি’তে একাধারে দলিত, অন্যদিকে নিজের যৌনকাঙ্ক্ষাকে আড়ালে রাখা চরিত্র ভারতী মণ্ডল (কঙ্কনা) অন্যতম। যে সমাজের দু'দিক থেকেই সংখ্যালঘু। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সমকামী চরিত্রে কঙ্কনা যেভাবে প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা অনবদ্য। এই চরিত্রে অভিনয় করার পর কঙ্কনা নিজেও জানান, শুধু পর্দায় নয়, পর্দার নেপথ্যের কারিগরদের মধ্যেও দলিত, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ থাকা জরুরি।
পরিমল থেকে পুঁটি (একজন ট্রান্স নারী) হয়ে ওঠার যাত্রায় নিজেকে চরিত্রের সত্তার সঙ্গে একেবারে মিশিয়ে দিতে পেরেছিলেন ঋদ্ধি সেন। সমাজের সংখ্যালঘু স্তরের এমন চরিত্র নিয়ে বাংলা ছবিতে খুব কম কাজ হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের প্রান্তিক হয়ে পড়ার বিষয় নিয়ে ‘নগরকীর্তন-এর পুঁটি দর্শকের কাছে সামাজিক ভাষ্য হয়ে উঠেছিল বললেও অত্যুক্তি হয় না।
‘সুপার ডিলাক্স’-এ বিজয় সেতুপতির কথা না বললেই নয়। ‘মনিকম’ থেকে ‘শিল্পা’ হয়ে ওঠার পর নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসার গল্প বলে এই ছবি। পরিবার প্রাথমিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারলেও সামাজিক প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে লড়াই চরম হয়ে ওঠে শিল্পার জীবনে। বিজয় সেতুপতির কেরিয়ারের অন্যতম সেরা উপস্থাপনা শিল্পার চরিত্রটি।
দু’একটি ইংরেজি ছবির কথা না বললেই নয়। ‘ব্রেকফাস্ট অন প্লুটো’ (২০০৫) ছবিতে ট্রান্সভেস্টিট ও ট্রান্স নারীর চরিত্রে কিলিয়ান মারফির অভিনয় যুগান্তকারী বললেও কম বলা হয়। অবিরাম দুর্ব্যবহার ও সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হয়েও মানবতার প্রতি কীভাবে একনিষ্ঠ থাকা যায়, মারফির ‘কিটি’ তার সেরা উদাহরণ।
২০১৭-র ছবি ‘কল মি বাই ইওর নেম’-এ ১৭ বছরের এলিও (টিমোথি শালামে) বাবার সহকারীর (আর্মি হ্যামের) মধ্যে প্রথম প্রেম খুঁজে পায়। যেখানে প্রান্তিক মানুষের ভালোবাসা স্পষ্ট। দুই নারীর প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি ‘পোর্ট্রেট অফ আ লেডি অন ফায়ার’ (২০১৯)-এর কথাও উল্লেখ্য। তালিকা দীর্ঘ! অনস্ক্রিন এই ধরনের চরিত্র নিয়ে যত বেশি চর্চা হবে, সাধারণ মানুষের কাছে ততই কুইয়ার চরিত্রদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:49 PM Jun 29, 2026Updated: 06:49 PM Jun 29, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
