Advertisement
কুসংস্কার ভুলে রিসেপশনে কালো পাড়ের শাড়িতে রশ্মিকা, বিজয়ের সাজের নেপথ্যে গভীর কারণ
বিরোশের রিসেপশনে যেন চাঁদের হাট।
অনেকেরই ধারণা কালো নাকি অশুভ রং। বহু মানুষ তা বিশ্বাস করেন। শুভ অনুষ্ঠানে কালো পোশাক কিংবা কালো শাড়ি পরার কথা ভাবতেও পারেন না। তবে রশ্মিকা সেসব কুসংস্কারের ধার ধারেন না। হায়দরাবাদের গ্র্যান্ড রিসেপশনের সাজে তার প্রমাণ দিলেন 'পরমসুন্দরী'।
বুধ সন্ধ্যায় গ্র্যান্ড রিসেপশনে সেজে ওঠার জন্য অভিনেত্রী বেছে নেন লাল রঙের সিল্কের শাড়ি। সরু কালো পাড়। তাতে সোনালি জড়ির কাজ। সরু প্লিট করে শাড়ি পরেছেন রশ্মিকা।
বিয়ের মতো রশ্মিকার রিসেপশনের গয়নাতেও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। শ্রী জুয়েলার্সের টেম্পল জুয়েলারিতে সাজেন তিনি। গলায় পরেছিলেন লেয়ার্ড নেকলেস। কানে ঐতিহ্য়বাহী দুল। হাতে হাতপদ্ম। মাঝখানে সিঁথি করে চুল বাঁধা। চুলে ফুল। কপালে ছোট্ট টিপ। সিঁথিতে সিঁদুর। হালকা মেকআপ। হাসিমুখে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান অভিনেত্রী।
বিয়েতে গা ভর্তি গয়না পরে চমক দিয়েছিলেন বিজয়। সঙ্গে হাত ও পায়ে আলতার নেপথ্যে নাকি লুকিয়ে ছিল লিঙ্গ সাম্যের বার্তা। সে-ই বিজয় রিসেপশনের লুকে কিছু চমক দেবেন না, তা কি হতে পারে।
জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে বিজয়ের রিসেপশনের সাজেও রয়েছে গূঢ় নেপথ্য কারণ। সাজে আদ্যোপান্ত দক্ষিণী ছোঁয়া। বিজয়ের পরনে ঘিয়ে রঙের ধুতি ও কুর্তা। এই পোশাক দক্ষিণীরা সাধারণত যেকোনও শুভ অনুষ্ঠানেই পরেন। বিজয় নাকি তাঁর মাতৃভূমির ঐতিহ্যেকে এভাবেই সকলের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
গ্র্যান্ড রিসেপশন পার্টিতে এদিন হাতে হাত রেখে ঢোকেন দু'জনে। আতিথেয়তা কোনও খামতি নেই। প্রথমে হাতজোড় করে পাপ্পারাজ্জিদের নমস্কার করেন যুগলে। গ্র্যান্ড রিসেপশনের গ্র্যান্ড এন্ট্রি মন ছুঁয়ে যায় অনুরাগীদের।
পরিবারের সকলের সঙ্গে ফটোশুট করতেও দেখা যায় নবদম্পতিকে। বিরোশের গ্র্যান্ড রিসেপশনের অতিথি তালিকা বেশ লম্বা। বলিউডের তাবড় তাবড় অভিনেতাদের নিমন্ত্রণ করেছেন তাঁরা। তেলুগু, মালয়ালাম, কন্নড় ছবির সঙ্গে যুক্ত সকলেও রিসেপশনে আমন্ত্রিত। তাই নিরাপত্তাও বেশ আঁটসাঁট।
হায়দরাবাদের গ্র্যান্ড রিসেপশনে করণ জোহর থেকে কৃতী স্যাননকে দেখা যায়। নীনা গুপ্তাকে রিসেপশন পার্টিতে দেখা যায়। সঙ্গে দক্ষিণী তারকাদের ভিড়। সবমিলিয়ে বিরোশের রিসেপশনে যেন চাঁদের হাট।
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার রিসেপশন পার্টিতে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নাকি আমন্ত্রণ করেছেন বিরোশ।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরের বিলাসবহুল ভিলায় বিয়ে সারেন বিজয়-রশ্মিকা। বিয়েতে রশ্মিকার পরনে সিঁদুরে লাল রঙের সিল্ক। সরু সোনালি পাড়। পাড়ের উপরের দিকে সোনালি জরির নকশা। সঙ্গে বিডসের কাজের ছোট হাতার ব্লাউজ। বিজয় সেজেছিলেন রংমিলান্তি সাজে। ঊর্ধ্বাঙ্গে লাল রঙের উত্তরীয়। সরু সোনালি পাড়ের সঙ্গে মুক্তোর মিশেলে যা একেবারে অন্যরকম। সঙ্গে সাদা সিল্কের ধুতি। মেহেন্দির পরিবর্তে হাত ও পায়ে আলতা।
নবদম্পতির সাজের মূল ইউএসপি যেন গয়নাগাটি। রশ্মিকার গলায় কাসু মালা। গলা থেকে নাভি পর্যন্ত ললন্তিকার স্টাইলে এই হার দক্ষিণী ঐতিহ্যকে বহন করে। হারটির প্রতি ধাপে লকেটে রয়েছে বিশেষত্ব। হারটি সবচেয়ে বড় লকেটে রয়েছেন দেবী লক্ষ্মী। ছোট তিনটি লকেট কল্কার কাজ। একেবারে গলায় লকেট চাকার মতো। ছোট ও বড় মটরদানার মিশেলে গলার হার এককথায় নজরকাড়া।
Published By: Sayani SenPosted: 09:55 PM Mar 04, 2026Updated: 10:51 PM Mar 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
