Advertisement
১৫ বছরেই রেকর্ডের 'রাজা', ১০ নজিরে ধরাছোঁয়ার বাইরে বৈভব! জানেন কী কী কাণ্ড ঘটিয়েছে?
রেকর্ড ও বৈভব সূর্যবংশী। এ যেন সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে।
রেকর্ড ও বৈভব সূর্যবংশী। এ যেন সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে। এবার দলীপ ট্রফির মঞ্চেও নয়া নজির ১৫ বছর বয়সি ক্রিকেটারের। এর মধ্যেই 'বেবি বস' এমন কিছু নজির গড়ে ফেলেছে, যা ভাঙা কার্যত অসম্ভব। দু'বছর হল ভারতীয় ক্রিকেটের চর্চায় এসেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে শুরু করে সিনিয়র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছে। এর মধ্যে বৈভব এমন ১০টি ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজের নামে করেছে, যা সকলকে চমকে দেবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক।
সম্প্রতি দলীপে হাফসেঞ্চুরি করেছে বৈভব। মাত্র ৪২ বলে হাফসেঞ্চুরি করে। এখন তার বয়স ১৫ বছর ১৫৭ দিন। এর আগে দলীপ ট্রফিতে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে হাফসেঞ্চুরির নজির ছিল লক্ষ্মণ সিংয়ের। ১৯৬৯ সালে ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন লক্ষ্মণ। সেই রেকর্ড ভেঙে দিল বৈভব। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি এল না তার ব্যাট থেকে। বৈভব শতরান করলে ভেঙে দিতে পারত ৩৬ বছর পুরনো শচীন তেণ্ডুলকরের নজির।
চলতি বছরে জুন মাসে শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে মাত্র ১১ বলে হাফসেঞ্চুরি করে বৈভব। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। শ্রীলঙ্কার কৌশল্যা বীরারত্নের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙেছে বৈভব। ২০০৫-০৬ মরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ১২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ভারতীয় হিসাবে দ্রুততম লিস্ট-এ হাফসেঞ্চুরি ছিল সরফরাজ খানের নামে। ২০২৫-২৬ বিজয় হাজারে ট্রফিতে মুম্বইয়ের জার্সি গায়ে ১৫ বলে ৫০ হাঁকিয়েছিলেন সরফরাজ।
লিস্ট এ-তে কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরির নজিরও বৈভবের নামে। ২০২৫-এ বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিল সে। যার মধ্যে আছে ১০টি চার ও ৮টি ছয়।প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে এটা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। বিশ্বের কনিষ্ঠতম হিসেবে সেঞ্চুরির নজির গড়েছিল বৈভব। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির রয়েছে জেক ফ্রেজার ম্যাকগুর্কের। ২০২৩ সালে তিনি তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
ভারতের কনিষ্ঠতম পুরুষ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে বৈভবের। জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পায় বৈভব। মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিনে ভারতীয় দলে সুযোগ পায়। এর আগে শচীন তেণ্ডুলকর ১৬ বছর ২০৫ দিনে ভারতের জার্সি পরেছিলেন। তবে ভারতীয়দের মধ্যে মহিলা ক্রিকেটার শেফালি বর্মা সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে এই নজির গড়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কনিষ্ঠতম হিসেবে হাফসেঞ্চুরির নজিরও বৈভবের নামে। জুলাই মাসে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দু'টি ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করেছিল বৈভব। মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিনে এই নজির গড়ে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল জিব্রাল্টারের লুইস ব্রুসের দখলে। তিনি ২০২১ সালে মাল্টার বিপক্ষে ১৬ বছর ৫৬ দিন বয়সে প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন। ঘটনাচক্রে এর তিনদিন পর ফের হাফসেঞ্চুরি করে বৈভব।
আইপিএলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে সেঞ্চুরির নজির গড়েছে বৈভব। ২০২৫ সালে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে ১০১ রানে করে। তার ব্যাট থেকে আসে ১১টা ছক্কা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর ৩২ দিন। আবার ২০২৬-এ এসে ক্রিস গেইলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বৈভব। আইপিএলের এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর নজির ছিল ইউনিভার্স বসের। ২০১২ সালে ৫৯টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। আর বৈভব মেরেছে ৭২টি ছক্কা।
এখানেই শেষ নয়। আইপিএলে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে অরেঞ্জ জয়ী সে। আনক্যাপড অর্থাৎ জাতীয় দলে অভিষেক না হওয়া ক্রিকেটার হিসেবে এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি রান করেছে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর নজিরও তার নামে। প্লেঅফেও সবচেয়ে বেশি ছক্কা। যৌথভাবে দ্রুততম অর্ধশতরান (১৬ বলে) হোক বা এক মরশুমে তিনবার ১০টির বেশি সেঞ্চুরি হাঁকানো একমাত্র ক্রিকেটার।
Published By: Arpan DasPosted: 08:04 PM Sep 01, 2026Updated: 08:04 PM Sep 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
