সন্তানের জন্ম থেকেই যে মানুষ কাঁধে অলিখিত দায়িত্বের বোঝা তুলে নেন, তিনি বাবা। সন্তানের জীবনের প্রথম হিরো তিনি। বাবাকে যতই ধন্যবাদ জানানো যাক না কেন, পিতৃঋণ শোধ করা সম্ভব নয় কখনওই। তবুও তাঁকে ভালোবাসা-কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ আসে প্রত্যেক বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। এদিন বিশ্বের নানা জায়গায় পিতৃদিবস (Fathers Day 2026) পালিত হয়।
বাবাকে কী উপহার দেওয়া যায়? সে ভাবনার অবসান করতে রইল সহজ সমাধান। সাধ্যের মধ্যেই খরচ, তাই যে কেউই তা জোগাড় করতে পারেন পিতৃদিবসের উপহার হিসেবে।
বাবাকে নিয়ে পছন্দের কোনও কোটেশন ছাপানো যায় ‘পার্সোনালইজড’ কফি মগের গায়ে।
- পার্সোনালইজড কফি মগ
বাবার কোলে বসে তোলা ছোটবেলার ছবি কিংবা এমন কথা বার্তা যা জানাতে চান বাবাকে, তাই ছাপানো যেতে পারে এমন ‘পার্সোনালইজড’ কফি মগের গায়ে। এমন উপহার কখনও পুরনো হয় না। - জার্নাল কিংবা নোটবুক
সারাদিনের কথা লিখে রাখা উচিত, তাতে জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়া সহজ হয়— আধুনিক প্রজন্ম নিজেদের প্রসঙ্গে এমন উপহারের কথা কতই না ভাবে। কিন্তু বাবারও কাযে লাগতে পারে ‘জার্নালিং’, তা বুঝি তেমনভাবে ভাবা হয় না। - পছন্দসই বই
অনুপ্রেরণামূলক কোনও বই অথবা গল্প-উপন্যাস-কবিতার, যেমনটা পড়তে বাবা ভালবাসতে পারেন। হয়তো পরিবারের সবার কথা ভাবার ফাঁকে নিজের জন্য টাকা খরচ করে বই কিনবার কথা তার মাথায় আসে না। - গ্রুমিং কিট
বাবার নিজস্ব জিনিসপত্রের মধ্যে বড়জোর একটা দাড়ি কামানোর রেজার দেখতে পাওয়া যেতে পারে। তাতে বলে গ্রুমিং কিট! স্কিনকেয়ারই বা কি? এসব প্রসঙ্গে হয়তো বাবার ভ্রু’জোড়া নিমেষে উপরদিকে উঠে যাবে। তাই সাধারণ ‘সেলফ-কেয়ার’ সংক্রান্ত কয়েকটি জিনিস একত্রিত করে উপহার দেওয়া যায় বাবাকে। রোজের কর্মব্যস্ত জীবনে স্কিনকেয়ার গুরুত্ব শেখাতে বসলে বুঝি আরও গভীর হয় সন্তান ও বাবার সম্পর্ক। - ফোটো ফ্রেম
অনলাইন অ্যাপে খুঁজলে নানা ধরনের আকর্ষণীয় ফোটো ফ্রেম পেয়ে যাওয়া যায়। তবে তা খালি অবস্থায় উপহার দেওয়ার বদলে, ভিতরে সাজিয়ে দেওয়া যায় বাবার সঙ্গে তোলা কোনও সুন্দর মুহূর্তের ছবি। - মোবাইল ফোন স্ট্যান্ড
সাইডটেবিল অথবা বইয়ের তাকের এককোণে যদি মোবাইল ফোন স্ট্যান্ডে ফোনটি রাখা অভ্যাস করেন বাবা, তবে হয়তো বেরোনোর সময় ভুলে যাবেন না। চার্জ রয়েছে কি-না, বাইরে যাওয়ার আগে আর চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সে বিষয়েও খেয়াল থাকে। ফলে উপহার হিসেবে মন্দ নয়।
হাতে লেখা চিঠিতে বাবাকে জানানো যায় ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা, অভিমানের কথা।
এমন সমস্ত ধরনের কেনা উপহার একপাশে সরিয়ে লিখে ফেলা যায় চিঠি! বাবাকে নিয়ে যা যা ভাবেন, যা বলতে চান, যা বলবেন ভেবেও হয়ে ওঠে না কখনওই, সেসব অনুভূতিকে জায়গা দেওয়া যায় হাতে লেখা চিঠিতে। এত কিছুর ফাঁকে যদি বাবার প্রতি অভিমানের কথাও দু’চার বাক্যে বলা যায়, তাতেই বা ক্ষতি কি?
