স্কুলে যাওয়ার আগে প্রায়শই বিছানা ছাড়তে চায় না বাড়ির একরত্তি। কখনও অসুখের বাহানা দেয়, কখনও বা মটকা মেরে পড়ে থাকে বিছানায়। কখনও আবার সত্যিই ডুবে থাকে গভীর ঘুমের ঘোরে। এ নিয়ে বাবা-মায়েদের হয়রানির শেষ নেই। অনেকেই রীতিমতো চোটপাট করেন সন্তানের উপর।
কিন্তু জানেন কি, সকালের শুরু যেমন হয়, তাই নির্ধারণ করে শিশুর সারাদিনের মেজাজ (How Not to Wake Your Kids)। সামগ্রিকভাবেই শিশুটি হাসিখুশি হবে, নাকি ঘ্যানঘ্যানে, তার সঙ্গে এর গভীর যোগ রয়েছে। তাই সন্তানকে ঘুম থেকে তোলার সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি।
১. চিৎকার করে ডাকবেন না
উচ্চস্বরে ডাকলে বা চিৎকার করলে শিশুর ঘুম হঠাৎ ভেঙে যায় ঠিকই। কিন্তু এতেই প্যানিক বা অ্যাংজাইটির মতো দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যার পথ প্রশস্ত হয়। নিয়মিত এমন চললে, অনিদ্রা কিংবা বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গও জুড়ে যেতে পারে।
২. হঠাৎ করে ঘরের সব লাইট জ্বালিয়ে/ফ্যান অফ করে দেবেন না
একরত্তির মনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন হঠকারী কাজ। এতে শিশু বড় হয়ে অন্যের প্রতি সমব্যথী হতে শেখে না। একই ফল হয় জোরে শব্দ করে ঘুম ভাঙালে।
৩. ওঠা মাত্রই বকাঝকা বা সমালোচনা করবেন না
অনেক মা-বাবাই মনে করেন, সন্তানের ঘুম থেকে না ওঠা ইচ্ছাকৃত, তাই বকুনি দিয়ে ঘুম ভাঙান। এতেও প্রভাব পড়ে শিশুর আত্মবিশাসে।
৪. ঘুম ভাঙতেই একসঙ্গে অনেক নির্দেশ দেবেন না
এতে শিশুটি সেই মুহূর্তে ভয় পায় তো বটেই, আগামীদিনে দ্বিধা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। যে কোনও জটিল পরিস্থিতিতেই ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে আগেই ঘাবড়ে যায়।
কী করবেন তবে?
১. শান্তভাবে ঘুম ভাঙান। নরম কণ্ঠে নাম ধরে ডাকুন বা আলতো করে কাঁধে হাত রেখে জাগান।
২. নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য খানিকটা সময় দিন শিশুকে।
৩. হঠাৎ লাইট না জ্বালিয়ে, পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন। সূর্যের আলো শরীরকে স্বাভাবিকভাবে জেগে উঠতে সাহায্য করে।
অনেক বাবা-মায়েরাই দাবি করেন যে তাঁদের ছোটবেলায় এমন ‘জেন্টল পেরেন্টিং’য়ের অবকাশ ছিল না। বরং বকে-মেরেই পালন করেছে তাঁদের বাবা-মায়েরা। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি যে কোনও প্রজন্মের সঙ্গেই পরের কোনও প্রজন্মের জীবনযাপনের তুলনা চলে না। সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চললে যদি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তবে তাতে ক্ষতি কি?
