shono
Advertisement
childhood trauma

শৈশবের ট্রমা সহজে কাটে না! প্রভাব পড়তে পারে প্রেমের সম্পর্কেও, বোঝা যায় এই লক্ষ্মণেই

মনোবিদরা বলছেন, কোনও মানুষের এমন আচরণের পিছনে কারণ হতে পারে তার ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’। অর্থাৎ, ছোটবেলায় পাওয়া কোনও ভয় যা সেই মানুষটি এত বছর ধরে বহন করে চলেছে, তা প্রভাবিত করতে পারে তার প্রাপ্তবয়সের প্রেম সম্পর্কটিকে।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 07:05 PM Jun 05, 2026Updated: 07:05 PM Jun 05, 2026

প্রেমের সম্পর্কে মিথ্যে চলে না, রাখঢাক চলে না। বরং পরস্পরের সামনে মনের কথা উজাড় করে দিয়েও নিশ্চিন্তে থাকা যায়। কিন্তু বাস্তব বুঝি এমন সহজ হয় না। সম্পর্কের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ কেটে যায়, শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। এই অবস্থায় হয়তো দেখা গেল, দুজন মানুষের মধ্যে কোনও একজন ঝামেলার অব্যবহিত পরেই নিজেকে গুটিয়ে নেয়। মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার বদলে, নিজেকে সরিয়ে রাখে সব থেকে। অন্যজন এই সময় যাই করে নিক না কেন, কোনওভাবেই পৌঁছতে পারে না উলটোদিকে থাকা মানুষটির কাছে। খানিকটা সময় পেরোলে আবার নিজের থেকেই ফিরে আসে সে।

Advertisement

প্রেমের সম্পর্কে কোনও সমস্যা নিয়ে কথা না বলতে চাইলে, তা অমীমাংসিতই রয়ে যায়।

কিন্তু ফিরে এসেও সমস্যাটি নিয়ে আর কথা বলতে চায় না। এড়িয়ে যায় প্রসঙ্গ উঠলে। ফলত তা অমীমাংসিতই রয়ে যায়। ভবিষ্যতে আবারও কখনও একই ধরনের ঝামেলার সম্ভাবনা রয়ে যায়।

মনোবিদরা বলছেন, কোনও মানুষের এমন আচরণের পিছনে কারণ হতে পারে তার ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’ (childhood trauma)। অর্থাৎ, ছোটবেলায় পাওয়া মানসিক আঘাত যা সেই মানুষটি এত বছর ধরে বহন করে চলেছে, তা প্রভাবিত করতে পারে তার প্রাপ্তবয়সের প্রেম সম্পর্কটিকে। কেবল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই নয়, ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’-র কারণে নানা ধরনের প্রভাব পড়তে পারে মানুষের আচরণে।

  • যেসব শিশুরা ছোট বয়সে বাবা-মাকে সব সময় ঝগড়া করতে দেখে, তারা বড় হয়ে সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। তাদের মন সংবেদনশীল হয়। ফলে যদি সে জীবনের কোনও এক পর্যায়ে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, তবে বারবার সঙ্গীর ভুলত্রুটি খুঁজতে থাকে। ছোট কোনও ঝামেলাতেও বিচ্ছেদই একমাত্র সমাধান বলে মনে করে এরা।
  • কোনও শিশু হয়তো ছোটবেলায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে অবহেলা পেয়েছে, অর্থাৎ সে কিছু জিনিসের আবদার করলে বা কথা বলতে চাইলে বাবা-মা গুরুত্ব দেয়নি, বা ভুল ধরেছে ছোট ছোট কাজে। তাহলে তার মধ্যে এই ধারণা জন্মায় যে নিজের অনুভূতি অন্য কাউকে জানতে দেওয়া উচিত নয়। ফলত সে নির্লিপ্ত হতে থাকে। বড় হয়ে সঙ্গীর আবেগপূর্ণ আচরণেও তাই যথাসম্ভব নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টাই করে যায়।
  • যে শিশুকে ছোটবেলায় বাবা-মা অতিরিক্ত বকাবকি করে, সে বড় হয়েও কথায় কথায় সঙ্গীর উপর চিৎকার করে। ভালোবেসেও যে সমস্যার সমাধান সম্ভব, এই ধারণাই তার মধ্যে গড়ে ওঠে না।

ছোটবেলায় অবহেলিত হলে, বড় বয়সেও ভাষা হিসেবে নির্লিপ্তিই বেছে নেয় মানুষ।

এ ধরনের অসুবিধা দেখা গেলে, অবশ্যই সরাসরি কথা বলুন উলটোদিকের মানুষটির সঙ্গে। যদি মনে হয় কেবল কথা বলে তা মেটার নয়, তবে থেরাপিস্টের দ্বারস্থ হন। সময় থাকতেই না শুধরালে, বিচ্ছেদ পর্যন্তও গড়াতে পারে এমন সমস্যা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement