সময় বদলে গিয়েছে। যুগ বদলে গিয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য ঘুচেছে বেশ খানিকটা। তা সত্ত্বেও নারী নির্যাতনে যেন লাগাম দেওয়াই মুশকিল। একের পর এক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে সর্বত্র। এই ধরনের অপরাধ ঠেকাতে কড়া আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধির। তাই ছোট থেকেই আপনার খুদে সন্তানকে দিন মহিলাদের সম্মানের পাঠ। কীভাবে শেখাবেন, অভিভাবকদের জন্য রইল টিপস।
Advertisement
- সন্তানকে ছোট থেকেই বোঝাই পুরুষ, মহিলা বলে আলাদা কিছু হয় না। একজন পুরুষ যা পারেন, একজন নারীও তাই পারেন। লিঙ্গবৈষম্য নয়। বরং দু'পক্ষের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারলে একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠতে পারে তা সহজ করে খুদেকে বোঝান।
- আমরা অনেক সময় ভাবনাচিন্তা না করে নানা কথা বলে ফেলি। ঠিক যেমন 'মেয়েদের মতো কাঁদে না', 'কেন মেয়েদের মতো আচরণ করছো', 'ছেলেরা মেয়েদের থেকে অনেক ভালো'। এই ধরনের কথা কখনও সন্তানের সামনে বলবেন না। তাতে তার মনে কুপ্রভাব পড়তে পারে।
- ইন্টারনেটের যুগে এখন এক ক্লিকেই সব পাওয়া যায় হাতের কাছে। খুদেকে সফল পুরুষদের পাশাপাশি সফল নারীর সংগ্রামের কাহিনি শোনান। তাতেই দেখবেন খুদের মহিলাদের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি হবে।
- কৈশোরে বেশিরভাগ মানুষের জীবনেই প্রেম আসে। আপনার সন্তানও ব্যতিক্রমী নয়। তার জীবনেও প্রেম, ভালোলাগা আসতে পারে। তাই কিশোর সন্তানকে বোঝান তার কাউকে ভালো লাগা মানেই বিপরীতে মানুষটারও তা নয়। আপনার সন্তানের মতামতের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনই তার বিপরীতে থাকা মানুষটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে স্বাগত জানানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আপনাকেই।
- আপনার ছেলের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করেন, ঠিক তেমনই মেয়ের সঙ্গে করুন। ছেলে রাত ১২টায় ফিরলে রাগারাগি করলে, মেয়ের ক্ষেত্রেও করুন। নইলে তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজেকে সমস্ত নিয়মের ঊর্ধ্বে বলে ভেবে ভুল পথে পা বাড়াতে পারে।
- আজও ঘরকন্নার কাজকে আমরা মেয়েদের কাজ বলে দাগিয়ে দিই। আপনার বাড়িতে তা হতে দেবেন না। সংসারে সকলে সমান। সবাই সব কাজ করতে পারেন, তা বোঝান। তাহলেই দেখলেই মহিলাদের প্রতি সম্মানবোধ বাড়ছে তাঁর।
- ঋতুকালীন সমস্যা কিংবা জামার ফাঁক দিয়ে অন্তর্বাস উঁকি দিলে তা নিয়ে আলোচনা নয়। বরং মহিলাদের সমস্যায় তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিন।
এভাবেই দেখবেন আপনার সন্তান হয়ে উঠবে প্রকৃত মানুষ। মহিলাদের সত্যিকারের বন্ধু হবে সে। আর তার ফলে আর পাঁচজন পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে এগিয়ে যেতে পারবেন মহিলারাও।
