'যেখানেতে দেখি যাহা, মায়ের মতন আহা'। সত্যিই তো তাই! মা ছাড়া গোটা পৃথিবী অচল। মায়েদের কোনও বিকল্প হয় না। জীবনের যেকোনও অভিঘাতে মায়ের প্রয়োজনীয়তাই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। তাই, তাঁকে ছাড়া জগৎ অন্ধকার। সম্প্রতি পাশ্চাত্য দুনিয়ায় ‘সৎ মা’ শব্দের নেতিবাচক অভিঘাত মুছে দিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মায়ের নিরঙ্কুশ ভালোবাসাকে স্যালুট জানাতেই এই প্রয়াস। চল হয়েছে নয়া শব্দ ‘বোনাস মাদার’। আক্ষরিক অর্থে যা অতিরিক্ত মা। পরিবার ভাঙা-গড়ার খেলায় এই শব্দ এখন ইউরোপ এবং আমেরিকার ড্রয়িং রুমে সম্পর্কের এক ইতিবাচক মোড়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
সাধারণত বাবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে আমরা সৎ মা বা স্টেপমাদার হিসেবে চিনে এসেছি। কিন্তু ‘সৎ’ শব্দের নেপথ্যে কোথাও একটা অবহেলা বা তিক্ততার গল্প লুকিয়ে থাকে। সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টাই হল এই বোনাস মাদার। ইনি এমন এক মহিলা, যিনি জীবনসঙ্গীর আগের সম্পর্কের সন্তানদের নিজের সন্তানের মতোই লালনপালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে বিয়ে না করেও লিভ-ইন পার্টনারের সন্তানদের দায়িত্ব নিলে তাঁদেরও এই নামেই ডাকা হচ্ছে।
পাশ্চাত্যে কেন জনপ্রিয় এই সম্পর্ক?
নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আমেরিকা ও ইউরোপে বিবাহবিচ্ছেদ এবং পুনর্বিবাহের হার অনেকটাই বেড়েছে। নতুন পারিবারিক কাঠামোয় সন্তানদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার তাগিদেই এই শব্দের জন্ম। ‘বোনাস’ মানে হল উপরি পাওনা। অর্থাৎ, জন্মদাত্রী মা তো আছেনই, তার পাশাপাশি আরও এক জন মায়ের স্নেহ পাওয়া। এই ইতিবাচক ভাবনা থেকেই গত দুই দশকে শব্দটি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছে। যদিও ভারতে বা অন্যান্য এশীয় দেশগুলিতে এখনও এই শব্দের তেমন চল হয়নি। এখানে যৌথ পরিবার প্রথা বা চিরাচরিত পারিবারিক মূল্যবোধ এখনও প্রবল। আধুনিক এই বিদেশি শব্দের বদলে আত্মীয়তার বাঁধনেই এখানে সম্পর্কের বিচার হয়।
প্রতীকী ছবি
শুধু বোনাস মাদার নয়, এখন ‘বোনাস ফাদার’ বা ‘বোনাস চাইল্ড’ শব্দগুলিও পশ্চিমে পরিচিত। এমনকী অফিসের প্রিয় বন্ধুকে বলা হচ্ছে ‘ওয়ার্ক স্পাউস’। আসলে মানুষ এখন রক্তের সম্পর্কের বাইরেও সহমর্মিতার নতুন বৃত্ত খুঁজতে ব্যস্ত। ‘বোনাস মাদার’ সেই সন্ধানেরই এক সুন্দর নাম।
