shono
Advertisement
Kaushiki Amavasya

কৃষ্ণকোষ থেকে জ্যোতির জন্ম, জানুন ভাদ্র অমাবস্যা কীভাবে হয়ে উঠল ‘কৌশিকী’?

সাধনমার্গের বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে মহাজাগতিক শক্তির এক অপূর্ব মিলন ঘটে। খুলে যায় স্বর্গ ও নরকের সূক্ষ্ম দুয়ার।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 04:12 PM Sep 10, 2026Updated: 04:14 PM Sep 10, 2026

অমাবস্যার আঁধারে চরাচর ঢেকে যায়। প্রদীপ জ্বলে ওঠে সাধনমার্গে। ভাদ্রের গাঢ় তমসায় যেন এক অলৌকিক মায়াজাল বোনে নিশীথিনী। প্রকৃতি তখন নীরব, আর সাধকের অন্তর উদ্বেল। সেই চরম তিথিই কৌশিকী অমাবস্যা—যেখানে লৌকিক ও অলৌকিকের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায় এক অমোঘ দেবীমাহাত্ম্যে। ভাদ্র অমাবস্যা কীভাবে হয়ে উঠল 'কৌশিকী'? জেনে নিন শাস্ত্রকথা।

Advertisement

সাধনমার্গের বিশ্বাস, এই বিশেষ তিথিতে মহাজাগতিক শক্তির এক অপূর্ব মিলন ঘটে। খুলে যায় স্বর্গ ও নরকের সূক্ষ্ম দুয়ার। ফলে শুভ ও অশুভ—দুই চেতনার ধারাই তখন ধরাতলে প্রবহমান। এই তিথিতেই তন্ত্রসাধনার শিখরে পৌঁছেছিলেন তারাপীঠের সাধক বামাক্ষ্যাপা। মা তারার চরণে সমর্পিত সেই সাধনার স্মৃতি বহন করে আজও তারাপীঠে সারারাত জেগে থাকে মহাপুজোর আলো। শুধু সনাতন বিশ্বাসেই নয়, বৌদ্ধ ধারাতেও এই রাতের তাৎপর্য সুগভীর।

তবে এই অমাবস্যার প্রকৃত রহস্য লুকিয়ে রয়েছে দেবী কৌশিকীর আবির্ভাবে। পুরাণকথা অনুাসারে, ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন দুই পরাক্রান্ত অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে। শর্ত ছিল, মাতৃগর্ভে জাত নয়—এমন কোনও নারীই কেবল তাঁদের বিনাশ করতে পারবেন। এই অযোনিসম্ভূতা নারীর খোঁজেই যখন দেবকুল ব্যাকুল, তখনই ঘটে এক দেবী-লীলা।

স্বামীর মুখে নিজের কৃষ্ণবর্ণের সম্বোধন শুনে অভিমানে বিরহিনী হন দেবী পার্বতী। মানস সরোবরের তীরে শুরু করেন কঠোর তপস্যা। তপ শেষে সরোবরের জলে স্নান করতেই দেবীর তনু থেকে ঝরে পড়ে সমস্ত কৃষ্ণকোষ। গায়ের রং হয়ে ওঠে পূর্ণিমার চাঁদের মতো দীপ্তিময়। আর সেই ঝরে পড়া কৃষ্ণকোষ থেকেই উদ্ভূত হন এক অপরূপা, ঘোর তমোময়ী দেবী। কোষ থেকে জন্ম বলেই তিনি ‘কৌশিকী’।

দেবী কৌশিকী অমাবস্যার এই রাতেই বধ করেন দুই অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে। সেই জয়ের স্মারকেই তিথির নাম কৌশিকী অমাবস্যা। তন্ত্রশাস্ত্রে যাকে বলা হয় ‘তারারাত্রি’। বিশ্বাস, এই রাতে কুলকুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত করা সম্ভব। পরম কৃপা আর পরম শক্তির এই মেলবন্ধনই ভাদ্রের অমাবস্যাকে এক পরম পবিত্র অভিজ্ঞতায় উন্নীত করে।

২৪ ভাদ্র (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয়েছে এই পুণ্য তিথি। ছাড়বে আগামীকাল সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে। আলোর খোঁজে আঁধারের এই আরাধনা হাজার বছর ধরে বাঙালিসত্তাকে দিয়ে আসছে আধ্যাত্মিক উত্তরণের পরম বার্তা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement