shono
Advertisement
Avatsahayeswarar Temple

কাবেরীর তীরে মহাদেবের বিরল রূপে মোহিত ভক্তকুল, রামায়ণের সঙ্গে জুড়ে মন্দিরের ইতিহাস

Tamil Nadu Shiva Temple: আজও এখানে নিয়মিত পূজা হয়। মহাশিবরাত্রি-সহ বিভিন্ন উৎসবে জমে ভক্তদের ভিড়। তামিল মাস মেনে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালিত হয়।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 04:27 PM Aug 20, 2026Updated: 04:45 PM Aug 20, 2026

ভক্তের যে কোনও বিপদেই তাকে রক্ষা করেন মহাদেব— এ ধারণা নতুন নয়। আর তাই তামিলনাড়ুর আদুথুরাইয়ের মন্দিরে শিব ভক্তের কাছে ধরা দেন অভৎসহায়েশ্বরর নামে, যার অর্থ, বিপদের সময়ের রক্ষাকর্তা। কাবেরী নদীর তীরে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রাচীন শিবমন্দিরের মধ্যে আদুথুরাইয়ের শ্রী অভৎসহায়েশ্বরর মন্দির (Avatsahayeswarar Temple) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Advertisement

তামিল শৈব সাধকরা তাঁদের ভক্তিগীতিতে যে ২৭৫টি পবিত্র শিবক্ষেত্রের প্রশংসা করেছিলেন, এটিই তারই অন্যতম। সপ্তম শতাব্দীর শৈব সাধক তিরুঞ্জানসম্পন্দর ও আপ্পার তাঁদের ভক্তিগীতিতে অভৎসহায়েশ্বররের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। মন্দিরে রয়েছেন দেবীমূর্তিও, স্থানীয় ভাষায় তাঁর নাম পাভালাকোডিয়াম্মাই।

মন্দিরের বাইরের রূপ।

পরবর্তী সময়ে চোল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দিরটির ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ হয়। বিশেষ করে চোল রানি সেম্বিয়ান মহাদেবী-র অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক শিলালিপি থেকে জানা যায়, তাঁর উদ্যোগে পুরনো ইটের কাঠামোর পরিবর্তে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল।

মন্দিরে পাওয়া প্রায় ১৫টি শিলালিপি, যা মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এগুলিতে মন্দিরের প্রদীপ জ্বালানো, পূজা, নৈবেদ্য, জমি ও অন্যান্য দানের বিবরণ রয়েছে। এর ফলে শুধু ধর্মীয় ইতিহাস নয়, সেই সময়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।

অভৎসহায়েশ্বরর মন্দিরে দ্রাবিড় স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। মন্দিরের গর্ভগৃহ, মণ্ডপ, প্রাকার এবং বিভিন্ন উপদেবতার পৃথক মন্দির রয়েছে। দেওয়াল ও স্তম্ভে শিবের বিভিন্ন রূপের পাশাপাশি গণেশ, কার্তিকেয়, দক্ষিণামূর্তি, দুর্গা এবং অন্যান্য দেবদেবীর ভাস্কর্য দেখা যায়। এমনভাবেই মন্দিরের নির্মাণ যে, তামিল মাস চিত্তিরাইয়ের পঞ্চম থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত সূর্যের আলো সরাসরি মূল দেবতার উপর এসে পড়ে।

এছাড়াও মন্দিরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে রামায়ণের কাহিনি। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, বানররাজ সুগ্রীব তাঁর ভাই বালীর ভয়ে এখানে এসে শিবের আরাধনা করেছিলেন। শিব তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। সেই থেকেই মন্দিরের দেবতা ‘অভৎসহায়েশ্বরর’ নামে পরিচিত হন। মন্দিরের প্রাঙ্গণে শিবের আরাধনা করছেন সুগ্রীব—এমন একটি ভাস্কর্যও রয়েছে।

মন্দিরের দেবীমূর্তি।

প্রাচীনকালে এই মন্দির ‘থেনকুরঙ্গাডুথুরাই মন্দির’ নামেও পরিচিত ছিল। এমন অদ্ভুত নাম কেন? তামিল ভাষায় ‘কুরঙ্গু’ শব্দের অর্থ বানর এবং ‘থুরাই’ বলতে নদীর তীর বা ঘাট বোঝায়। ‘থেন’-এর অর্থ দক্ষিণ। অর্থাৎ রামায়ণের কাহিনীর সূত্র ধরেই রাখা এই নাম।

আজও এখানে নিয়মিত পূজা হয়। মহাশিবরাত্রি-সহ বিভিন্ন উৎসবে জমে ভক্তদের ভিড়। তামিল মাস মেনে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালিত হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement