দশ হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার হদিশ মিলতে পারে ওড়িশায়! সম্বলপুরের ভীমমণ্ডলী পর্বত এলাকায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, যে সভ্যতার সন্ধান মিলতে চলেছে সেটা প্রস্তরযুগের! যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে তা হবে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা সভ্যতার চেয়েও প্রাচীন। নিঃসন্দেহে তা আমাদের দেশের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসকে এক নতুন মোড় দেবে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সম্বলপুর জেলার রেডাখোলের ওই এলাকায় খননকাজ শুরু করেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। আসলে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা প্রাগৈতিহাসিক চিত্র, দৈনন্দিন ব্যবহারের সরঞ্জাম, পাথুরের অস্ত্রের সন্ধান পেতেই নড়েচড়ে বসে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এএসআই সুপারিন্টেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট ডিবি গদনায়ক জানিয়েছেন, এই খনন মোটেই সহজ নয়। কেননা পুরো বিষয়টিই সংবেদনশীল। সমস্ত প্রমাণ অক্ষুণ্ণ রাখতে সাবধানে কাজ করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্র নয়, হাতে খুঁড়েই অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। যার ফলে দিনে হয়তো এক সেন্টিমিটার কাজ হচ্ছে। কিন্তু তাড়াহুড়োয় কোনও প্রমাণ নষ্ট করতে রাজি নন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
রেডাখোলের ওই এলাকায় খননকাজ শুরু করেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। আসলে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা প্রাগৈতিহাসিক চিত্র, দৈনন্দিন ব্যবহারের সরঞ্জাম, পাথুরের অস্ত্রের সন্ধান পেতেই নড়েচড়ে বসে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।
ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে পাথরের ধারালো অস্ত্র, সুচ ইত্যাদি। এবং তা থেকে প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষা থেকেই বোঝা গিয়েছে অস্ত্রগুলি আধুনিক যুগের নয়। নিশ্চিত ভাবেই প্রাচীন সভ্যতার।
এই স্থানটিতে শিলালিপি ও চিত্রকর্ম দ্বারা সজ্জিত ৪৫টিরও বেশি শিলা রয়েছে। এই প্রাগৈতিহাসিক শিল্পীরা গাছের ছাল ও পাতার সঙ্গে আয়রন অক্সাইড মিশিয়ে প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করতেন। তাদের শিল্পকর্মে বনভূমির পরিবেশ এবং দৈনন্দিন জীবন চিত্রিত হয়েছে। যা একই সঙ্গে বিনোদন এবং তাদের অস্তিত্বের একটি দলিল হিসেবে কাজ করে বলে মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। কার্বন ডেটিং শুরু হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ভীমমণ্ডলী সংঘ এই স্থানটিকে একটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে।
