চাঁদের মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন এখন অতীত। সেখানে রীতিমতো বসতি স্থাপনের তোড়জোড় চলছে। চন্দ্রাভিযান নিয়ে উৎসাহের খামতি নেই মহাকাশ গবেষণা ও পর্যটন সংস্থাগুলির। কিন্তু সেই আগ্রহে জল ঢালতে চলেছে বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিকতম গবেষণার রিপোর্ট। বলা হচ্ছে, চাঁদ নাকি হারিয়ে যেতে পারে আকাশ থেকে! পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহকে নিয়ে এত স্বপ্ন, এত কাব্য, এতরকমের সৃষ্টি - সবই স্রেফ শূন্য হয়ে যাবে! এও কি সম্ভব? এই উত্তর অবশ্য এখনও বহু দূর। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য সেই অশনি সংকেত তো দিচ্ছেই। পৃথিবী হয়ত হারিয়ে ফেলবে তার একমাত্র উপগ্রহ এবং সবচেয়ে কাছে থাকা মহাজাগতিক বস্তুটিকে।
কিন্তু কেন এমন বিপদের কথা শোনাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা? ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম সেন্টার ফর আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি স্টাডিজের বিজ্ঞানীরা বহু গবেষণার পর জানাচ্ছেন, চাঁদের অভ্যন্তর ভাগ তাপ হারিয়ে ক্রমশ শীতল হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে তার বহিরঙ্গেও। ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় আকারও ছোট হচ্ছে। পূর্ণিমার সন্ধ্যায় আকাশে ওঠা চাঁদকে যে গোল থালার সঙ্গে তুলনায় করা হয়, সেই উপমাও হয়ত ধীরে ধীরে ফিকে হবে। চাঁদ যে এভাবে সংকুচিত হচ্ছে, অন্তত ১৬ বছর আগে সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল সংস্থার এক বর্ষীয়ান বিজ্ঞানী থমাস আর ওয়াটারসের কাজে। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব-হিসেব অনুযায়ী চাঁদ আয়তনে ক্রমশ ছোট হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, চাঁদের অভ্যন্তর ভাগের স্তরও ক্রমশ উঠে যাচ্ছে। এর জেরে টেকটনিক প্লেটও (যার জন্য চাঁদের মাটিতে ভূমিকম্প হয়) মিলিয়ে যেতে পারে।
ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম সেন্টার ফর আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি স্টাডিজের বিজ্ঞানীরা বহু গবেষণার পর জানাচ্ছেন, চাঁদের অভ্যন্তর ভাগ তাপ হারিয়ে ক্রমশ শীতল হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে তার বহিরঙ্গেও। ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় আকারও ছোট হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হল, ছোট হতে হতে চাঁদ যদি একেবারে হারিয়ে যায়, তাহলে কী হবে? এককথায়, পৃথিবীর উপর ভয়ংকর প্রভাব পড়বে। চাঁদ-সূর্য-পৃথিবীর সম্মিলিত মহাকর্ষ বলের জোরেই নক্ষত্র-গ্রহ-উপগ্রহের বর্তমান অবস্থান। সূর্যের অসীম টান উপেক্ষা করেও পৃথিবী যে নিজ অক্ষের উপর স্থিরভাবে থাকে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রয়েছে চাঁদের। এই টানাটানির জেরেই নির্দিষ্ট সময় অন্তর জোয়ার-ভাটা, সূর্যগ্রহণ-চন্দ্রগ্রহণের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। সৃষ্টির সময় থেকে ঘটে চলা এই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় ছেদ পড়ার ফলে পৃথিবী তোলপাড় হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অগ্ন্যুৎপাতের ফলে যে সালফার কণা বায়ুমণ্ডলে মেশে, তা চাঁদ শুষে নেয়।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, তার জেরে মহাকাশে সেই সালফারের একটা স্তর তৈরি হবে, যা বিষক্রিয়া করতে পারে। যার ফলে পৃথিবীর আবহাওয়ায় আমূল বদল হয়ে যাবে! সবমিলিয়ে মহা প্রলয়ের আশঙ্কা।
