shono
Advertisement

Breaking News

King Cobra

ভাগের মা! একই বাসায় সন্তানদের পাহারায় দুই শঙ্খচূড়! অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত প্রাণীবিদরা

চিনে শঙ্খচূড়ের স্বাভাবিক বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত। তবে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের ইউনান প্রদেশে সম্প্রতি শঙ্খচূড়ের তিনটি বাসার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 05:05 PM Aug 26, 2026Updated: 05:05 PM Aug 26, 2026

প্রাণীজগতে সাপ এক রহস্যময় সরীসৃপ। যুগ যুগ ধরে তাকে ঘিরে রয়েছে এক আলো আঁধারি জগৎ। সরীসৃপের সেই পর্দা ঢাকা দুনিয়ায় অন্ধকারের ঘনত্ব বোধহয় সবচেয়ে বেশি শঙ্খচূড় (King Cobra) বা রাজসাপ-কে ঘিরে। দীর্ঘ শরীরের এই ভয়ংকর বিষধর সাপ পৃথিবীর একমাত্র সাপের প্রজাতি যারা বাসা তৈরি করে সেখানে সন্তানের জন্ম দেয়। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে জানা গেল, সাপেদের আচরণের চেনা গণ্ডি ভেঙে সামাজিক হতে পারে এই রাজকীয় সরীসৃপ। ডিম ফুটিয়ে সন্তানের জন্ম দিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে দুই মা শঙ্খচূড়। সম্প্রতি চিনের ইউনান প্রদেশে দেখা গিয়েছে কিং কোবরার অদ্ভুত এই আচরণ। যা বিস্ময়কর বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, চিনে শঙ্খচূড়ের স্বাভাবিক বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বত। তবে চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমের ইউনানে সম্প্রতি শঙ্খচূড়ের তিনটি বাসার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। এই তিন বাসায় যথাক্রমে ৩০, ৭২ এবং ২৫টি ডিম পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে কুনমিং অঞ্চলে শঙ্খচূড়ের বাসা দেখে বিস্মিত হয়েছেন সকলেই। এই সাপ গড়ে ২৫-৩০টি ডিম পাড়ে, সেখানে চিনে সাপের বাসায় পাওয়া গিয়েছে ৭২টি ডিম। শুধু তাই নয়, এই বাসা পাহারা দিচ্ছিল দুটি স্ত্রী সাপ। যা শঙ্খচূড়ের ক্ষেত্রে ভীষণরকম বিরল।

দুই স্ত্রী সাপের একসঙ্গে পাহারা দেওয়ার ঘটনা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে, এই দুই সাপ একই বাসায় একসঙ্গে ডিম পেড়েছিল।

শঙ্খচূড় সাপ একা থাকতেই পছন্দ করে। মিলনের সময়েই স্ত্রী ও পুরুষ সাপকে একসঙ্গে দেখা যায়। এপ্রিল থেকে জুন মাস শঙ্খচূড়ের ডিম পাড়ার সময়। এই সময় তারপর স্ত্রী সাপ একাই এক মিটার উঁচু বাসা তৈরি করে তাতে ডিম পাড়ে। প্রায় ৯০ দিন ধরে না খেয়ে ডিম পাহারা দেওয়ার এই সময় স্ত্রী সাপেরা ভীষণরকম আগ্রাসী হয়ে ওঠে। বাসার আশপাশে কাউকে ভিড়তে দেয় না। সেখানে দুই স্ত্রী সাপের একসঙ্গে পাহারা দেওয়ার ঘটনা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে, এই দুই সাপ একই বাসায় একসঙ্গে ডিম পেড়েছিল। তবে ঘটনা যাই হোক, চিনে শঙ্খচূড়ের এহেন আচরণ নতুনভাবে ভাবাচ্ছে বিজ্ঞানীদের। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি প্রয়োজনের নিরিখে এরা একসঙ্গেও থাকে?

অবশ্য শঙ্খচূড় নিয়ে যতটুকু গবেষণা এখনও পর্যন্ত হয়েছে তা হয়েছে পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে। আভিজাত্যে ভরা এই সাপ খুব খারাপ পরিস্থিতি ছাড়া কাউকে সহজে কামড়ায় না। এর কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা নেই বললেই চলে। তবে শঙ্খচূড়ের নিউরোটক্সিন বিষ শরীরে প্রবেশ করলে ৩০ মিনিটের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। ৩ থেকে ৪ মিটার লম্বা পৃথিবীর দীর্ঘতম এই বিষধর সাপের খাদ্য হল অন্যান্য সাপ। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement