সুকুমার সরকার, ঢাকা: এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে মানুষের জন্য পাসপোর্টের দরকার পড়লেও প্রাণীদের ক্ষেত্রে তা নেই। তাই কয়েকদিন আগে ভারতের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো বিলুপ্ত প্রজাতির দু’টি বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ অনায়াসে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এবার কচ্ছপ দু’টি নয়াদিল্লির হাতে তুলে দিতে চলেছে ঢাকা।
[আরও পড়ুন: ইউক্রেন ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিল ঢাকা]
লখনউ থেকে টাইগার প্রজেক্টের বায়োলজিস্ট শ্রীপর্ণা দত্ত জানান, বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া তাদের দু’টি কচ্ছপের পিঠে লাগানো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সচল রয়েছে এবং কচ্ছপগুলি শীঘ্রই ভারতে ফিরিয়ে এনে নতুন করে ট্রান্সমিটার লাগিয়ে আবার ছাড়া হবে। বিলুপ্ত প্রজাতির বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের জীবন নিয়ে গবেষণার জন্য গত ১৯ জানুয়ারি ১০টি কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগিয়ে সুন্দরবনের নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামী বছরের জানুয়ারিতে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে টাইগার প্রজেক্ট বায়োলজিস্ট শ্রীপর্ণা দত্ত জানিয়েছেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণের জেলা খুলনার দিঘলিয়ায় ভারতের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো বিলুপ্ত প্রজাতির বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ উদ্ধার হয়। এর সপ্তাহ খানেকের মাথায় পায়রা নদীতে মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ে আরেকটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ। স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো কচ্ছপ দু’টি শিগগিরই ফিরিয়ে নেবে ভারত। রবিবার (৬ মার্চ) বিকেলে উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটি পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
পটুয়াখালি বনবিভাগের বিভাগীয় বন আধিকারিক (ডিএফও) আব্দুল্লা আল মামুন জানান, শনিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় পাথরঘাটার পায়রা নদীতে মৎস্যজীবীদের জালে ভারতের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপটি ধরা পড়ে। খবর পেয়ে পটুয়াখালি বন বিভাগের বনরক্ষীরা কচ্ছপটিকে মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনার দিঘলিয়ায় মৎস্যজীবীদের জালে অনুরূপ একটি বাটাগুর কচ্ছপ ধরা পড়ে সেটি এখন করমজলে রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মহম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, পায়রা নদী থেকে উদ্ধার করা ভারতীয় কচ্ছপটি রবিবার বিকেলে করমজল বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
