একে বিপন্ন, তার উপর বিরলতম। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য এত সংগ্রামের পরও বুঝি শাপমুক্ত ঘটছে না! সম্প্রতি দিন চারেকের টানা বৃষ্টি ওরাংওটাংদের বা বনমানুষদের বিরলতম প্রজাতিকে একেবারে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিরলতম টাপানুলি ওরাংওটাংদের ৭ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। সুমাত্রার ৮০০ টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের মধ্যে মারা গিয়েছে ৫৮ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড সংখ্যা। বিশালদেহী প্রাণীদের নিথর, নিস্পন্দ দেহগুলি ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ তো বলেই ফেলছেন, মানুষের মৃতদেহের চেয়েও এই দৃশ্য অধিক বেদনাদায়ক। তবে কি ওরাংওটাংয়ের এই প্রজাতিটা অচিরেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে? শঙ্কায় প্রাণীবিদরা।
টাপানুলি হল বিশ্বের বিরলের মধ্যে বিরলতম এবং সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির বনমানুষ। ২০১৭ সাল অর্থাৎ ৯ বছর আগে এদের বিপন্ন প্রজাতি বলে চিহ্নিত করে দিয়েছিল। তখনও পর্যন্ত ৮০০ জন টাপানুলি ছিল জঙ্গলে। সকলের বাসস্থান ছিল উত্তর সুমাত্রার বাটাং। বিপদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে। সেবছর সাইক্লোন সেনিয়ারের ধাক্কায় সুমাত্রাতেই প্রায় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়। দুর্যোগ কাটতেই দেখা যায়, শুধু মানুষের মৃতদেহ নয়, দিকে দিকে পড়ে বনমানুষদের ছিন্নভিন্ন দেহ। পরে হিসেবনিকেশ করে দেখা গিয়েছে, গত কয়েকমাসে দ্বিগুণ হারে ওরাংওটাংরা স্রেফ বিনাশ হয়ে গিয়েছে।
কেন টাপানুলি প্রজাতির বনমানুষ বা 'গ্রেট এপ'দের জীবন্মৃত্যু নিয়ে এত ভাবিত বিজ্ঞানী মহল? তা বুঝতে গেলে এদের সম্পর্কে দু-চারটি তথ্য জানা জরুরি। টাপানুলি হল বিশ্বের বিরলের মধ্যে বিরলতম এবং সবচেয়ে বিপন্ন প্রজাতির বনমানুষ। ২০১৭ সাল অর্থাৎ ৯ বছর আগে এদের বিপন্ন প্রজাতি বলে চিহ্নিত করে দিয়েছিল। তখনও পর্যন্ত ৮০০ জন টাপানুলি ছিল জঙ্গলে। সকলের বাসস্থান ছিল উত্তর সুমাত্রার বাটাং। বিপদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে। সেবছর সাইক্লোন সেনিয়ারের ধাক্কায় সুমাত্রাতেই প্রায় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়। দুর্যোগ কাটতেই দেখা যায়, শুধু মানুষের মৃতদেহ নয়, দিকে দিকে পড়ে বনমানুষদের ছিন্নভিন্ন দেহ। পরে হিসেবনিকেশ করে দেখা গিয়েছে, গত কয়েকমাসে দ্বিগুণ হারে ওরাংওটাংরা স্রেফ বিনাশ হয়ে গিয়েছে।
টাপানুলি ওরাংওটাংরা আরও বিপন্ন!
সপ্তাহখানেক আগে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ। উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে কর্মীরা দেখেন, পুলো পাক্কাট গ্রামে ধ্বংসস্তূপের নিচে কবরে চলে গিয়েছে বনমানুষদের দল। কাদা, গাছের গুঁড়ি সরিয়ে তাদের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে থাকা প্রাণীবিদ ডিকি চন্দ্রের কথায়, ‘‘আমি বহু মানুষের মৃতদেহ দেখেছি। কিন্তু এত বড় বড় বনমানুষদের দেহ এই প্রথম দেখলাম। সবচেয়ে চমকে গিয়েছিলাম দেখে যে মুখের অংশ থেকে মাংস উঠে গিয়েছে। মনে হয়, ওরা এখানে ফল খেতে এসেছিল। বৃষ্টিতে এই জায়গাই তাদের সমাধিস্থল হয়ে উঠল। চরম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা!''
কিন্তু তাদের বাঁচিয়ে রাখতে কী করণীয়? রিপোর্ট অনুযায়ী, সর্বাগ্রে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সাহায্য। এছাড়া স্থানীয় স্তরে অরণ্যাঞ্চল রক্ষা, জীববৈচিত্র্য বজায় রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। মনে করা হচ্ছে, এমন কয়েকটি জরুরি উদ্যোগ নিলে এখনও বিরলতম টাপানুলি প্রজাতির বনমানুষদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। এখনও এটুকুই আশা।
