shono
Advertisement
Dhurbe elephant

গল্প নয় সত্যি, ১৪ বছর নজর রেখে এক পরিবারের চারজনের প্রাণ নিয়েছে খুনে হাতি! তারপর...

২০১২-এ আক্রমণের মুখে পড়ে উদ্যানেরই কিছু কর্মী গুলিবিদ্ধ করতে বাধ্য হয় ধুরবেকে। গভীরভাবে আহত হয়ে জঙ্গলের গভীরে পালায় ধুরবে। অনুমান করা হয়, ক্ষত বিষিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। আচমকাই ২০১৬ সালে আবার দেখা দেয় সে।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:35 PM Jul 08, 2026Updated: 08:35 PM Jul 08, 2026

মানুষকে তাড়া করছে উন্মত্ত কোনও প্রাণী, লুকিয়ে চুরিয়ে আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা করছে মানুষ— হলিউড এমন প্লটে সিনেমা বানিয়ে চলেছে বহুকাল ধরেই। ভয়ংকর প্রাণী ভাবতে গেলে অজগর-হাঙর-গোড়িলা-বাঘ-সিংহ কত নামই না মাথায় আসে, তা বলে হাতি? ক্ষেপে উঠে কখনও হাতি মানুষ মেরেছে, এমন শোনা গিয়েছে ঠিকই। তবে তার সংখ্যা খুবই কম।

Advertisement

কিন্তু নেপালের এই বিশেষ ঘটনাটিতে এক হাতি যা করেছে, তাতে রীতিমতো হতবাক বন্যপ্রাণ অধিকার কর্মীরাও। এই বুনো পুরুষ হাতিটির নাম ধুরবে (Dhurbe elephant), তার চারণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকাকে।

পুত্র-সহ সর্বস্বান্ত শানিচারা বোতে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। চিতওয়ানের মাদি এলাকার বারুয়া বাজারের কাছে ধুরবের হামলায় নিহত হন স্থানীয় বাসিন্দা শানিচারা বোতের বাবা বুধিরাম ও মা ঝারালি। সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকেই মানুষের ওপর হামলা করতে শুরু করেছিল হাতিটি। শোকে বিহ্বল শানিচারা স্থির করলেন হাতির আতঙ্ক মাথায় নিয়ে সেখানে বাস করা সম্ভব হবে না। তাই জমি বেচে, নিজের সর্বস্ব নিয়ে কার্যত পালিয়ে গেলেন।

পার করলেন রেউ নদী, জাতীয় উদ্যানটি থেকে সরে গেলেন বহু দূরে। জগতপুরের রাপতি নদীর কাছে নতুন করে বসতি গড়লেন। এরপর কেটে গেল ১৪ বছর। এতদিনে জীবনে অনেকদূর এগিয়েছেন শানিচারা। বাড়িতে রয়েছে বছর ২৫-এর যুবতী পুত্রবধূ আশিকা। বছর চারেক আগে নাতিও জন্মেছে ঘরে, নাম রাখা হয়েছে ভরত। ধীরে ধীরে তাঁর আঁধার অতীত ভুলেছেন বৃদ্ধ।

আচমকাই এক মধ্যরাতে ভয়ানক আওয়াজে ঘুম ভাঙল শানিচারার, ভয়ে আতঙ্কে হতবাক হয়ে দেখলেন, তাঁর বাড়িঘর প্রায় ধূলিসাৎ করেছে এক দামাল হাতি। পদপিষ্ট হয়ে মরেছে আশিকা ও ভরত। কোন হাতি? ধুরবে! অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে একই হাতির হামলায় মৃত্যু হল এক পরিবারের চার সদস্যের। ‘দুই নদী পার করেও ধুরবে খুঁজে বের করল আমাদের!’ কিংকর্তব্যবিমুঢ় শানিচারার বয়ান নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।

২০১০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ধুরবের আক্রমণে। ২০১২-এ আক্রমণের মুখে পড়ে উদ্যানেরই কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধ করতে বাধ্য হয় ধুরবেকে। গভীরভাবে আহত হয়ে জঙ্গলের গভীরে পালায় ধুরবে। অনুমান করা হয়, ক্ষত বিষিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। আচমকাই ২০১৬ সালে আবার দেখা দেয় সে। আগের থেকেও রগচটা, বদমেজাজি। শরীরে ক্ষতর চিহ্নমাত্র নেই!

অচেতন ধুরবের শরীরে বসানো হচ্ছে স্যাটেলাইট ট্র্যাকার।

ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বারতিনেক হাতিটির শরীরে স্যাটেলাইট ট্র্যাকার লাগানো হয়, যা সাধারণত বনকর্মীদের বুঝতে সাহায্য করবে হাতিটির গতিবিধি। কিন্তু সে সমস্ত উপেক্ষা করেও বারেবারে মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে ধুরবে। বনকর্মীরা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এ যেন ধুরবের এক অদ্ভুত নেশা, প্রতি বছর একবার করে সে বেরিয়ে আসবেই ঘন জঙ্গল থেকে। উদ্দেশ্য একটাই, মানুষের উপর আক্রমণ!’

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement