দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে আশি বছর। হিরোশিমা ও নাগাসাকির দগদগে ঘা এখনও যেন শুকোয়নি। এবার বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেলেন এমন এক 'ভূতুড়ে' কণা যা সত্যিই চমকে দেয়। ধ্বংসযজ্ঞে এমন এক আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জানা গিয়েছে, পারমাণবিক বিস্ফোরণে এমন এক ধাতব পদার্থের সন্ধান মিলেছে যাকে ওই বিস্ফোরণের 'ভৌতিক দলিল' বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ইটালির ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী লুকা বিন্দি হিরোশিমা বে থেকে অতি-ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের সময় এই সংকর ধাতুটির সন্ধান পান। তিনি বলছেন, ''কয়েক দশক পরেও, মাত্র কয়েক মাইক্রোমিটার আকারের একটি কণা সেই পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য ধরে রাখতে পারে, যা বাস্তবে টিকে ছিল সেকেন্ডের অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ সময় ধরে। এই কণাগুলো কেবল গলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ নয়। এগুলি সেই বিস্ফোরণের একেকটি ভৌত দলিল।''
পারমাণবিক বিস্ফোরণে এমন এক ধাতব পদার্থের সন্ধান মিলেছে যাকে ওই বিস্ফোরণের 'ভৌতিক দলিল' বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ইটালির ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী লুকা বিন্দি হিরোশিমা বে থেকে অতি-ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের সময় এই সংকর ধাতুটির সন্ধান পান।
'সায়েন্স অ্যাডভান্সেস' নামের জার্নালে এই সংক্রান্ত এক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যা থেকে জানা যাচ্ছে, পারমাণবিক বিস্ফোরণ তার আশেপাশের পরিবেশের ওপর বজ্রপাত বা উল্কাপাতের মতোই প্রভাব ফেলে। বাতাস সূর্যের পৃষ্ঠতলের সমান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আবার দ্রুত শীতলও হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পদার্থ বাষ্পীভূত হয়ে এমন সব উপায়ে পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সচরাচর ঘটে না। আর সেভাবেই আয়রন, ক্রোমিয়াম, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, সিলিকন এবং অ্যালুমিনিয়ামের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল একটি সুষম কিউবিক ল্যাটিস (ঘনকাকৃতির কেলাস কাঠামো)।
এমন এক আবিষ্কার এক বিশাল ও অনাবিষ্কৃত জগতের দিকেই ইঙ্গিত করছে, মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। সাধারণ অবস্থায় এমন আবিষ্কার সম্ভব ছিল না। নতুন কোনও পদার্থ খুঁজে পেতে হলে অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী সব জায়গাতেই তা খুঁজতে হবে। যা এক্ষেত্রে উদ্ধার হতেই চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা।
