সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নক্ষত্রের মুখোমুখি মানুষ। কিন্তু বহির্বিশ্বের দিকে তাকাতে গিয়ে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে নিজেদের নীল গ্রহটাকে বিপদের মুখে ফেলছে না তো মানব সভ্যতা? পৃথিবীর চারপাশে বেড়ে চলেছে ই-আবর্জনা। আর তার জেরেই বাড়ছে আশঙ্কা। কেবল ২০২৪ সালেই ১২০০টি বস্তু মহাকাশ থেকে খসে পড়েছে পৃথিবীতে। অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদ বাঁধবে না তো? ভয় বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এক নতুন গবেষণায় সেই ভয় বাড়ল। ওই গবেষণায় 'ক্র্যাশ ক্লক' নামে একটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। যা দাবি করছে, উপগ্রহগুলি যদি ২৪ ঘণ্টার জন্য নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তবে বিপর্যয়ের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যাবে!
আসলে পৃথিবীকে চক্কর কাটা উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট এবং বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটাচ্ছে। এর ফলে মহাকাশে বর্জ্য বৃদ্ধি, সংঘর্ষের ঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে 'ক্র্যাশ ক্লক'। কী এই বিপর্যয়-ঘড়ি? এই ঘড়ির সাহায্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে একটি বিধ্বংসী সংঘর্ষ ঘটতে আর কত সময় বাকি আছে তা পরিমাপ করে। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে, সৌর ঝড়ের মতো বড়সড় বিপদে পড়লে রাতারাতি 'অন্ধ, বধির' হয়ে যাবে সব কৃত্রিম উপগ্রহ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য নিয়ন্ত্রণ হারালেও ঘটে যাবে বড় বিপদ!
পৃথিবীর উপরে এই মুহূর্তে ভিড় করে রয়েছে হাজার দশেক স্যাটেলাইট। যা বেড়ে ১৫ হাজার হবে শিগগিরি। ফলে যত সময় যাচ্ছে ততই সম্ভাবনা বাড়ছে খারাপ হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট থেকে বিপদের আশঙ্কা। অকেজো কৃত্রিম উপগ্রহের পাশাপাশি রকেটের পরিত্যক্ত অংশ, মিশন-সংক্রান্ত আবর্জনা (লেন্স ক্যাপ বা সেপারেশন বোল্ট জাতীয় যন্ত্রপাতি), মহাকাশে মানুষ প্রেরিত বস্তুগুলির মধ্যে হওয়া সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া যন্ত্রাংশ ইত্যাদি নানা বস্তুও রয়েছে সেখানে। দেখা যাচ্ছে, মহাকাশে অন্তত ৪০ হাজার বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই অনুমান করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ১ সেমির বেশি আকারের বস্তুরই পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে বিপদ হতে পারে। ১২ লক্ষের বেশি মহাকাশ-বর্জ্য জমেছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, যদি একটি বড় ঝড়ের সময় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, তবে একটি ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটতে মাত্র দিন তিনেক সময় লাগবে।
