shono
Advertisement
Europe heatwave

৪০ ডিগ্রিতেই নাজেহাল ইউরোপ! ভারত সহ্য করতে পারলেও গরমে কেন মৃত্যুমিছিল ফ্রান্স-স্পেনে?

ইউরোপের অধিকাংশ বাড়িই তৈরি হয়েছে দীর্ঘ ও তীব্র শীতের কথা মাথায় রেখে। তাই সেগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ঘরের ভিতরের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে না যায়। গ্রীষ্মকালে এই বৈশিষ্ট্য উল্টো সমস্যা তৈরি করে।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 05:58 PM Jun 30, 2026Updated: 06:07 PM Jun 30, 2026

সোশাল মিডিয়ার ভাইরাল ফোটোতে দেখা যাচ্ছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (Europe heatwave) ছোঁয়ার আগেই গরমে নাজেহাল ইউরোপের একাধিক দেশের বাসিন্দারা। খাওয়া-ঘুমানো, এমনকী বেঁচে থাকাই সেখানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে রীতিমতো। ইতালির একাধিক বড় শহরে জারি হয়েছে সতর্কতা। এমনকী, সূত্র মতে, ২১ জুনের পর থেকে ১৩০০-এর বেশি মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন কেবলমাত্র তাপপ্রবাহ সইতে না পেরে!

Advertisement

তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তে, ভারতীয় নেটিজেনরা বরং খানিক বিরূপ মন্তব্যেই মেতেছেন। ভারতের তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছালেও এখানকার বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে পারেন, বলেছেন একজন। অন্য এক ব্যক্তি কমেন্ট করেছেন যে, তেমন গরমে দাঁড়িয়ে চা পান করাও ভারতীয়দের কাছে খুবই সহজ! স্বাভাবিকভাবেই, ভারতীয় প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক কম তাপমাত্রাতেও যেন ভোগান্তি পোয়াতে হচ্ছে ইউরোপবাসীকে, সে নিয়ে খানিক বিদ্রূপাত্মক হাসি-ঠাট্টাই চোখে পড়বে সোশাল মিডিয়ায়।

কিন্তু সত্যিই কি ইউরোপের ৪০°C আর ভারতের ৪৩°-এ একই রকম অনুভূতি হয় মানুষের?
বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন অন্য কথা। জলবায়ু নিয়ে যারা বছরের পর বছর গবেষণা করে চলেছেন, তাঁরা জানান, থার্মোমিটারে একই তাপমাত্রা দেখালেও বাস্তবে গরমের অনুভূতি একেবারেই আলাদা হতে পারে। নেপথ্যে, নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, সংশ্লিষ্ট শহরটির পথ-নকশা, বাসস্থানের ধরনের মতো একাধিক কারণ।

ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্য
ভারতের তুলনায় অনেক বেশি উত্তরেঘেঁষা ইউরোপ। ভারতে যেমন সূর্যের রশ্মি সরাসরি মাথার উপর পড়ে, ইউরোপে তা নয়। গ্রীষ্মকালে সেখানে দিনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ অনুভূত হয়।

বাতাসের গুণগত মান
ভারতের অনেক শহরে বাতাসে ধুলো ও দূষণের মাত্রা বেশি থাকে। এই সূক্ষ্ম কণাগুলো সূর্যের আলো কিছুটা ছড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। ফলে সূর্যের রশ্মি সরাসরি মাটিতে পৌঁছায় এবং গরম বাড়ায়।
সম্প্রতি ইউরোপের তাপপ্রবাহের সময় অনেক এলাকায় বাতাসের গতি ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও প্রায় হাওয়া ছিল না বললেই চলে। বাতাস না থাকলে শরীর ঠান্ডা হতে পারে না। ফলে গরমে দমবন্ধ লাগতে পারে।

বাড়িঘরের নকশা
ইউরোপের অধিকাংশ বাড়িই তৈরি হয়েছে দীর্ঘ ও তীব্র শীতের কথা মাথায় রেখে। তাই সেগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ঘরের ভিতরের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে না যায়। গ্রীষ্মকালে এই বৈশিষ্ট্য উল্টো সমস্যা তৈরি করে। ঘরে বাইরের তাপ আটকে প্রাণান্তকর অবস্থা সৃষ্টি করে। ভারতের মতো সেখানে খোলা জানলা, বারান্দা থাকে না অনেক সময়েই। এমনকী ফ্যান, এসি-ও মজুদ থাকে না সব সময়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম কতটা অসহনীয় লাগবে, তা শুধু থার্মোমিটারের জানানো সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। তাই ইউরোপের বাসিন্দাদের চাইতে ভারতীয়দের গরম সহ্য করার ক্ষমতা বেশি, এ কথা দাগিয়ে দেওয়া চলে না একেবারেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement