শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সেই হিসেবে সাতাশ বছর পরে ইউরোপে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। আগামী ১২ আগস্ট সহস্রাব্দের প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে ইউরোপ। স্বাভাবিক ভাবেই এখন থেকেই চড়ছে আগ্রহের পারদ।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, যখন চাঁদ সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে, তখনই সূর্যগ্রহণ হয়। পূর্ণগ্রাসের ক্ষেত্রে ঢাকা পড়ে সূর্যের সবটা। ফলে সৃষ্টি হয় এক অনুপম মহাজাগতিক সৌন্দর্যের। রাতারাতি অন্ধকারে ঢেকে যায় চারপাশ। পাখিরা ফেরে বাসায়। তাপমাত্রায় একলাফে নেমে যেতে থাকে। আর গ্রহণের কবল থেকে সূর্য বেরিয়ে আসার প্রথম মুহূর্তে দেখা যায় 'ডায়মন্ড রিং'। শেষবার এমন দৃশ্য ইউরোপ দেখেছিল ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট। ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া থেকে দেখা গিয়েছিল সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। অর্থাৎ ইউরোপের দক্ষিণপশ্চিম দিকেই তা মূলত দৃশ্যমান হয়েছিল। এরপর ২০০৬ সালে রাশিয়া ও জর্জিয়ার একাংশ থেকে এবং ২০১৫ সালে নরওয়ে থেকে সূর্যের পূর্ণগ্রাস দেখা গেলেও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে।
জানা গিয়েছে, গ্রহণ প্রথমে দেখা যাবে উত্তর রাশিয়া থেকে। এরপর তা গ্রিনল্যান্ড ও আইশল্যান্ডের পশ্চিমাংশে দৃশ্যমান হবে। এরপর পালা উত্তর ও পূর্ব স্পেনের। পর্তুগালেরও একটা ছোট্ট অংশে সূর্য মুখ ঢাকবে আঁধারে।কিন্তু ভারত থেকে কি গ্রহণ দেখা যাবে। হিসেব বলছে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী এখানে দুপুর আড়াইটে থেকে গ্রহণ শুরু হলেও বিকেল ৫টৈ ১৫ মিনিট নাগাদ তা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করবে। শেষ হবে সন্ধ্যা ৮টায়। তবে ভারত থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। কারণ দেশটির অধিকাংশ এলাকায় সূর্যাস্তের পরেই এই ঘটনাটি ঘটবে। ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে দৃশ্যমান পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অনেক পরে হবে। তাই ১২ আগস্ট যে ওই বিরল অভিজ্ঞতার শরিক হতে সকলে মুখিয়ে থাকবে তা বলাই যায়। আসলে এক প্রজন্মের মধ্যে একবারই দেখা যায় এমন দৃশ্য। তাই আগ্রহ বেড়েই চলেছে।
