নতুন বছরের শুরুতে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ইসরো। সোমবার সকালে পিএসএলভি-সি৬২ রকেটের মাধ্যমে ১৬টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর সময় ঘটে যায় বিপর্যয়। হারিয়ে গিয়েছে ১৬টি উপগ্রহ। কিন্তু কী কারণে ঘটল এমন অঘটন?
জানা যাচ্ছে, প্রথম দু'টি ধাপ ছিল একেবারে ত্রুটিবিহীন। উৎক্ষেপণ ঠিকঠাকই হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল সাফল্য একেবারে হাতের মুঠোবন্দি হয়ে গিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার। কিন্তু তৃতীয় ধাপেই ঘটে যায় অনর্থ। পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগের জন্য একটা চূড়ান্ত জোর ধাক্কা প্রয়োজন, যা দেওয়ার কথা এক কঠিন-জ্বালানি মোটরের। কিন্তু তখনই শুরু হয় গোলমাল। রকেটটিতে ঝাঁকুনি শুরু হয়। তা ওলটপালট খেতে থাকে। এবং শেষমেশ নিজের পরিকল্পিত পথ থেকে ছিটকে যায়। আসলে যে গতি প্রয়োজন ছিল, তা না থাকাতেই রকেটের উপরের অংশ এবং উপগ্রহগুলি আর উপরে উঠতে পারেনি। বরং তাদের গতিমুখ বদলে গিয়ে হয়ে যায় পৃথিবী!
মঙ্গলবার ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যার মধ্যে, রকেটের উপরের অংশ এবং এর সাথে সংযুক্ত যেকোনও পেলোড সম্ভবত পৃথিবীর ঘন নিম্ন বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করে। আর তারপরই বাতাসের সঙ্গে তীব্র ঘর্ষণের ফলে হাজার হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে! যার ফলে তারা উল্কাপিণ্ডের মতো উজ্জ্বলভাবে জ্বলে পুড়ে যায়। দু-একটা ছোট টুকরো সম্ভবত কোনও ক্ষতি না করেই সমুদ্রে পড়েছিল।
জানা যাচ্ছে, প্রথম দু'টি ধাপ ছিল একেবারে ত্রুটিবিহীন। উৎক্ষেপণ ঠিকঠাকই হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল সাফল্য একেবারে হাতের মুঠোবন্দি হয়ে গিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার। কিন্তু তৃতীয় ধাপেই ঘটে যায় অনর্থ।
উল্লেখ্য, গতবছর পিএসএলভি রকেটের মাধ্যমে একবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মিশন মুখ থুবড়ে পড়ে। তার আগে আরও তিনবার ধাক্কা খেয়েছে পিএসএলভি রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ। নতুন বছরে যে ১৬টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর মিশন ছিল পিএসএলভি রকেটের, তার মধ্যে অন্যতম ‘অন্বেষা’। ডিআরডিওর তৈরি এই কৃত্রিম উপগ্রহর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার হত। এই উপগ্রহের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত আলোর উৎস জানা যেত। ভারতের সীমান্তে শত্রুপক্ষের আনাগোনা বা অস্ত্র মোতায়েনের খবর জানতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই অন্বেষা। কিন্তু আপাতত সেই স্যাটেলাইট হারিয়ে গেল।
