কৃত্রিম উপগ্রহের যুগে দাঁড়িয়েও প্রকৃতির নিজস্ব পূর্বাভাসকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্টের ঢের আগে, গ্রামীণ ভারতে আজও এক অদ্ভুত ডানাওয়ালা ‘আবহাওয়াবিদ’ বর্ষার আগমন বার্তা বয়ে আনে। সে আর কেউ নয়, আমাদের অতি পরিচিত হট্টিটি পাখি। আশ্চর্যের বিষয় হল, আকাশে ওড়ার অসীম ক্ষমতা থাকলেও, এই পাখিটির পা কখনও গাছের ডালে স্পর্শ করে না। তার জীবন আবর্তিত হয় শুধু মাটি আর আকাশের দোলাচলে।
ছবি: সংগৃহীত
গ্রামীণ জনপদে হট্টিটিকে নিয়ে লোককথার অন্ত নেই। অনেকে বলেন, এই পাখি নাকি বর্ষার একেবারে নিখুঁত খতিয়ান দিতে পারে। হট্টিটির ডিম পাড়ার ধরন দেখেই নাকি একসময় চাষিরা বুঝে নিতেন সে বছর কেমন বৃষ্টি হবে। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, পাখিটি একসঙ্গে যেক'টি ডিম একজায়গায় গুছিয়ে রাখে, ঠিক তত মাসই বর্ষা স্থায়ী হয়। যদি চারটি ডিমের মধ্যে তিনটি সে একজায়গায় রাখে, তবে ধরে নেওয়া হয় তিন মাস বৃষ্টি হবে। আবার নদী বা জলাশয়ের ঠিক কতটা কাছে সে ডিম পাড়ল, তার ওপর নির্ভর করে নদীর জলের টান। ডিম ফুটে বাচ্চা না বেরোনো পর্যন্ত নদীতে নাকি বান আসে না।
ছবি: সংগৃহীত
অবশ্য বিজ্ঞান এই অদ্ভুত লোককথাকে সরাসরি মান্যতা দেয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের সংখ্যার সঙ্গে বর্ষার মেয়াদের কোনও প্রত্যক্ষ বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। তবে বিজ্ঞান এটুকু অবশ্যই স্বীকার করে যে, হট্টিটি যেখানে বাসা বাঁধে, তার আশেপাশে জলের উৎস থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এরা মাটিতেই ডিম পাড়ে এবং মা ও বাবা— দুজনেই সমানভাবে সন্তানের দেখভাল করে।
একইসঙ্গে এই পাখি কৃষকের পরম বন্ধু। লাঙল চলার সময় বা ট্র্যাক্টরের পিছনে পিছনে এদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। মাটির বুক চিরে বের হওয়া ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিজ্ঞান আর বিশ্বাসের এই দোলাচলেই আজও বেঁচে রয়েছে হট্টিটির রহস্য।
