উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন অংশে ফের দাবানলের আতঙ্ক! ধোঁয়ায় ঢেকেছে অনেক অরণ্য। স্বাভাবিক ভাবেই বন দপ্তরের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে। যে কয়েকটি অঞ্চলে জঙ্গলে আগুনের দাপাদাপি, তার অন্যতম নন্দাদেবী (Nanda Devi) জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। হিমালয়ের উপরের দিকে অবস্থিত পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই সংরক্ষিত এলাকাটির একটি বিশাল অংশের সবুজ প্রকৃতি আগুনে ছারখার হয়ে গিয়েছে। মহাকাশ থেকেও চোখে পড়ছে আগুনের লেলিহান শিখা। যদিও হিমালয়ের এই রাজ্যে দাবানল বারংবার পুনরাবৃত্ত হয়। তবে এই বছর তা অনেকটা আগেই এবং ব্যাপক আকারে ঘটতে শুরু করেছে। যাকে ঘিরে উদ্বেগের পারদ চড়ছে। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি?
আসলে এবছরের শীত অতিরিক্ত শুষ্ক। আর তার ফলেই এই বিপত্তি ঘটছে। উত্তরাখণ্ড সাধারণত শীতকালীন বর্ষণ ও তুষারপাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। গ্রীষ্মের আগে যাতে পরিবেশ আর্দ্র থাকে। কিন্তু এবার বৃষ্টি ও তুষারপাত একেবারেই কম হয়েছে। আর তার ফলেই জঙ্গল শুকনো হয়ে থাকছে। সহজেই ঘটে যাচ্ছে দাবানলের বিপর্যয়।
যদিও হিমালয়ের এই রাজ্যে দাবানল বারংবার পুনরাবৃত্ত হয়। তবে এই বছর তা অনেকটা আগেই এবং ব্যাপক আকারে ঘটতে শুরু করেছে। যাকে ঘিরে উদ্বেগের পারদ চড়ছে।
এতেই 'সিঁদুরে মেঘ' দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশবিদ অনিল যোশী বলছেন, ''এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। আর তা কেবল তখনই সম্ভব যখন আমরা বনের উপরিভাগের মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধি করতে পারব।'' সেই জন্যই এই অঞ্চলে বেশি করে জলাশয় এবং পরিখা খননের পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। এর ফলে বৃষ্টি বা তুষারপাত কম হলেও অঞ্চলের পরিবেশ আর্দ্রই থাকবে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং পরিবর্তিত আবহাওয়ার ধরন হিমালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। 'উষ্ণ' শীতের কারণে তুষারপাত কম হয়, বরফ দ্রুত গলে যায় এবং শুষ্ক সময়কাল দীর্ঘ হয়। এর ফলে দাবানলের মরশুম দীর্ঘায়িত হয়েছে। অতীতের তুলনায় কয়েক সপ্তাহ আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, জলবায়ু পরিবর্তন পর্বতমালার ছন্দকে বদলে দিচ্ছে। ফলে বাড়ছে চিন্তা। বাড়ছে উদ্বেগ। অবিলম্বে সতর্ক হওয়ার নিদান দিচ্ছেন তাঁরা।
