গায়ের রং কালো? তা সে যতই কালো হোক, মুখপানে তাকালে চোখ সবার প্রথম আটকাবেই তার পুরুষ্টু ঠোঁট জোড়ায়! কৃষ্ণরঙা মুখমণ্ডলে উজ্জ্বল হয়ে জেগে থাকে ঠোঁট দু’খানা। যার রং ফ্যাকাশে কমলা! দেখে হয়রান বিশ্বের তামাম জীববিজ্ঞানী। তাঁদের জানার পরিধির মধ্যে এমন প্রাণী আসেনি কখনও আগে।
আজ্ঞে হ্যাঁ, প্রাণী। লম্বা লেজ বিশিষ্ট, ঘন কালো লোমের এই প্রাণী আর কেউ নয়— বাঙালির চিরচেনা হনুমানেরই জাতভাই (New Monkey Species With Orange Lips)। বহু বছরের অনুসন্ধানের পর মধ্য আফ্রিকার কঙ্গোর ঘন রেনফরেস্টে দেখা মিলেছে বানরের এই বিশেষ প্রজাতিটির। কেবল দেখতেই যে অদ্ভুত, তা নয়। এই বানরের ডাক আশ্চর্য রকমের গুরুগম্ভীর। প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস (Colobus congoensis)। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এই বানর বহুদিনেরই চেনা। কথ্য ভাষায় একে ‘লিকওয়েলি’ বলে ডাকেন তাঁরা।
লুকুরু ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ হয়েছে এই আবিষ্কারের কথা। গবেষকদের মতে, আফ্রিকায় গত ৭৫ বছরে আবিষ্কৃত বানর প্রজাতিগুলির মধ্যে পঞ্চম এটি। প্রাইমেট গবেষণায় এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণীটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটিকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে সময় লেগেছে কয়েক বছর। এটি যে কলোবাস বানরেরই এক উপপ্রজাতি নয়, তা বুঝতে দীর্ঘ ফিল্ড রিসার্চ ও ডিএনএ বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়েছে।
পুরু কমলা ঠোঁট ও গা-ভরা চকচকে কালো লোম তো আছেই। পাশাপাশি, এই বানরের দুই গাল অপেক্ষাকৃত ধূসর। পশ্চাৎভাগে সাদা দাগ রয়েছে। হাতে বুড়ো আঙুলের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল এর গম্ভীর, গর্জনের মতো ডাক এবং নাক দিয়ে শোঁ-শোঁ শব্দ করার অভ্যাস। গবেষকদের ধারণা, এই স্বর ও মুখের রং সঙ্গী নির্বাচন এবং পরস্পরকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও প্রাণীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। লিকওয়েলি কেবল কঙ্গোর একটি সীমিত বনাঞ্চলেই বাস করে। অবৈধ শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এর সংখ্যা দ্রুত কমে চলেছে। তাই গবেষকরা প্রাণীটিকে 'বিপন্ন' (Endangered) তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
