সুন্দরবনে কুমিরের পরিবার নিয়ে চিন্তিত বনদপ্তর। ম্যানগ্রোভ দ্বীপাঞ্চলের নোনাজলে কুমিরদের সংখ্যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন রাজ্য বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ উপলক্ষে নেচার এনভারনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটি বাইপাসের পাঁচতারা এক হোটেলে আলোচনাচক্রের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বনমন্ত্রী ও বনদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ওই আলোচনাচক্রে সুন্দরবনের কুমিরের সংখ্যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সুন্দরবন বলতে আমরা জানি জলে পড়লে কুমির খাবে। ডাঙায় উঠলে বাঘে। ভাবতাম সেখানকার জলে অনেক কুমির রয়েছে। অথচ বাস্তব তা নয়। কুমিরের সংখ্যা অত্যন্ত কম।’’
সম্প্রতি বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ সুন্দরবন পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, ২ হাজার মতো কুমির থাকতে পারে সেখানে। কিন্তু আলোচনা চক্রে বনদপ্তরের তথ্য শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। বনদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরের সংখ্যা মোটামোটি ২৫০! সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা কীভাবে এত কমল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। অতো কুমির গেল কোথায়?
সম্প্রতি বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ সুন্দরবন পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, ২ হাজার মতো কুমির থাকতে পারে সেখানে। কিন্তু আলোচনা চক্রে বনদপ্তরের তথ্য শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। বনদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিরের সংখ্যা মোটামোটি ২৫০! সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা কীভাবে এত কমল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। অতো কুমির গেল কোথায়? ম্যানগ্রোভের এই জঙ্গলে লাগাতার শাসন করে যাচ্ছে বাঘেরা। সুন্দরবনের জল নোনা। এই নোনাজলে দাপিয়ে বেড়ায় কুমির। রয়্যাল বেঙ্গল বাঘেদের টানে দেশ-বিদেশের পর্যটক, ওয়াল্ডলাইফ ফটোগ্রাফাররা এই দ্বীপাঞ্চলে বাড়ে বাড়ে ফিরে আসেন। হলুদ ডোরা কাটাকে একবার চাক্ষুষ করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা।
সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের কুমির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে কুমির সংরক্ষণও জরুরি। বাঘ সুমারির মতো প্রতি বছর কুমির সুমারি করে বনদপ্তর। বাঘ গণনার কাজ অনেকটা সহজ এক্ষেত্রে। বাঘেদের ক্ষেত্রে জঙ্গলে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়ে সুমারি কাজ করা হয়। কিন্তু কুমির সুমারির কাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। ছোট ছোট নৌকায় চেপে বনকর্মীদের খাঁড়িতে ঢুকে কুমিরের আস্তানা চিহ্নিত করা। সেখানে থাকা কুমিরের মাথা গোনা, তাদের দেহের ছাপ দেখে সুমারি করা হয়। ফলে কুমিরের সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভবপর হয় না। তবে প্রাথমিক একটা সংখ্যা পাওয়া যায়। তাই সুমারির সংখ্যা থেকেও বেশি কুমির রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাক্তন বনকর্তা প্রদীপ ব্যাস কর্মজীবনে অনেক বছর সুন্দরবনে কাটিয়েছেন। তিনিও সুন্দরবনে কুমির সংরক্ষণে সদিচ্ছা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন। তাঁরও মনে হয় সুন্দরবনে অস্বাভাবিকভাবে কুমির কমে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় নোনাজলের কুমির সংরক্ষণের মতো সুন্দরবনের কুমির সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘পূর্ব সুন্দরবন যেমন টাইগার রিজার্ভ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পশ্চিম সুন্দরবনকে ক্রোকোডাইল রিজার্ভ করা হোক।''
আলোচনাচক্রে হাজির ছিলেন প্রাক্তন বনকর্তা প্রদীপ ব্যাস। কর্মজীবনে তিনি অনেক বছর সুন্দরবনে কাটিয়েছেন। তিনিও সুন্দরবনে কুমির সংরক্ষণে সদিচ্ছা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন। তাঁরও মনে হয় সুন্দরবনে অস্বাভাবিকভাবে কুমির কমে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় নোনাজলের কুমির সংরক্ষণের মতো সুন্দরবনের কুমির সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘পূর্ব সুন্দরবন যেমন টাইগার রিজার্ভ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। পশ্চিম সুন্দরবনকে ক্রোকোডাইল রিজার্ভ করা হোক।'' সেখানে কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন প্রাক্তন এই বন আধিকারিক।
বাঘের মতো কুমির সংরক্ষণ যে জরুরি, তা সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভারে ফিল্ড ডিরেক্টর রাজেন্দ্র জাখারও স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, সুন্দরবনে কুমিরের সংখ্যা আগের চেয়ে একটু বেড়েছে ঠিকই। তবে সেটা সন্তোষজনক সংখ্যা নয়। বাঘের মতো কুমির সংরক্ষণে জোর দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
