shono
Advertisement
Jhargram

মাথায় মুকুট! ৬০ বছর পর বিরল ফড়িংয়ের দেখা মিলল ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে

গত সপ্তাহে গবেষক পবিত্র মাহাতো লোধাশুলির জঙ্গলে সবুজ রঙয়ের এই ফড়িং দেখা মাত্রই ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:36 PM Jul 16, 2026Updated: 05:41 PM Jul 16, 2026

হানি ব্যাজারের পর এবার জঙ্গলমহলের জীব বৈচিত্রে নতুন সংযোজন হুডেড গ্রাসহোপার (hooded grasshopper) তথা মুকুটযুক্ত ফড়িংয়ের। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের লোধাশুলির জঙ্গলে মিলেছে বিরল প্রজাতির এই ফড়িংয়ের। স্ত্রী এই ফড়িংটির সাধারণ ফড়িং-এর থেকে দেখতে বেশ আলাদা সেটা বিলক্ষণ বুঝেছিলেন গবেষক পবিত্র মাহাতো। গত সপ্তাহে তিনি লোধাশুলির জঙ্গলে সবুজ রঙয়ের এই ফড়িং দেখা মাত্রই ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর শিক্ষক কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত কলেজের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহারকে বিষয়টি ছবি সমেত দেখান। সুমনবাবু এই পতঙ্গটির ইতিহাস খুঁড়ে বার করেন। দীর্ঘ প্রায় ৬০ পর মুকুটযুক্ত ফড়িংয়ের অস্তিত্ব মেলায় উচ্ছ্বসিত গবেষকরা।

Advertisement

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি এলাকায় বনদপ্তরের ক্যামেরায় ধরা পড়ে হানি ব্যাজারের ছবি।

সুমনবাবু জানান, ১৯৬৫ সালে বম্বে হিস্ট্রি সোসাইটির জার্নালে বলা হয় বিরল এই মুকুট ফড়িং ভারতের শুধু পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণে রয়েছে। ফাদার রিচার্ড ভুল শুধরে দিয়ে বলেন মুকুট ফড়িং তো বিহারেও রয়েছে। এরপর আরও তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু হয়। জানা যায়, বিহারে শুধু নয়, ওড়িশাতেও রয়েছে এমন ফড়িং। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ১৯৬৫ এর একটি সংগ্রহ দেখে জানায়, মেদিনীপুর থেকে এই মুকুট ফড়িং সংগ্রহ করা হয়েছিল। যটি লোধাশুলিতে দেখা গিয়েছিল। সেটি পরিণত স্ত্রী ফড়িং। এর এন্টেনার দৈর্ঘ্য ১৯ মিমি, দেহের দৈর্ঘ্য ৪৬ মিমি, মুকুটের (pronotum) উচ্চতা ১৮ মিমি, দৈর্ঘ্য ২৫ মিমি এবং পিছনের পা ৪০ মিমি। তবে তুলনামূলক এই প্রজাতির পুরুষ ফড়িং অনেক ছোটো হয়। 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি এলাকায় বনদপ্তরের ক্যামেরায় ধরা পড়ে হানি ব্যাজারের ছবি। ধরা পড়েছিল ভালুকের ছবিও। জঙ্গলমহলের জেলার মধ্যে ঝাড়গ্রাম জীব বৈচিত্র্যের নিরিখে উপরের দিকে রয়েছে। এমনকী বিগত সময়ে একাধিকবার লালগড়, বেলপাহাড়ির জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলেছিল। এছাড়া ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন জঙ্গলে হাতি ছাড়াও রয়েছে হায়না, নেকড়ে বাঘ, বন বিড়াল, শিয়াল-সহ নানা জীব। পাশাপাশি গুল্ম, বাঁশ-সহ নানা প্রজাতির বিভিন্ন গাছেরও ভাণ্ডারও রয়েছে ঝাড়গ্রামে। এরমধ্যেই মুকুটযুক্ত ফড়িংয়ের দেখা মেলায় জেলার মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আলাদা উন্মাদনা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement