shono
Advertisement
Rare cave pearls in Vietnam Thang Cave

সাগর নেই, ঝিনুক নেই, ভিয়েতনামে গুহার গায়ে সারি সারি মুক্তো! তাজ্জব বিজ্ঞানীরা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গঠন পৃথিবীর প্রাচীন জলবায়ু, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন এবং কার্স্ট ভূপ্রকৃতির বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 02:22 PM Jul 20, 2026Updated: 02:22 PM Jul 20, 2026

মুক্তোর হদিশ মিলবে কেবল সাগরের গভীরে ডুব দিই— এ চিরাচরিত ধারণা মানুষের মনে বসে গিয়েছে পাকাপাকিভাবে। কিন্তু পাহাড়ের গুহায় কি মুক্তো পাওয়া যেতে পারে? সচরাচর পারে না বলেই যানে মানুষ, তাই তো ভিয়েতমানের এই ‘মুক্তো গুহা’ উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। কাণ্ডটা কী!

Advertisement

সূত্র: ইন্টারনেট

ভিয়েতনামের ইউনেস্কো স্বীকৃত ফং ন্যা–কে বাং (Phong Nha–Ke Bang) জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত হয়েছে একটি নতুন গুহা। এমনিতে প্রায় ৪০০-র উপর গুহা রয়েছে এই জায়গায়। তবে এই বিশেষ গুহাটির কথা এতকাল জানত না সাধারণ মানুষ। গুহাটিতে প্রবেশ করে বিজ্ঞানীদের চক্ষু চড়কগাছ! কেন? কারণ গুহার গায়ে আটকে রয়েছে হাজার হাজার মুক্তো (Rare cave pearls in Vietnam Thang Cave)! এমন বিরল মুক্তোর সম্পর্কে এর আগে অবধি খুব একটা অবগত ছিল না বিশ্ববাসী।

এই আবিষ্কার ইতিমধ্যেই ভূতত্ত্ববিদ, গুহা গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক ও ভিয়েতনামের স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মুক্তোগুলি দেখতে গোলাকার, মসৃণ ও উজ্জ্বল। তবে সামুদ্রিক মুক্তোর মতো একেবারেই নয় তা। কারণ সামুদ্রিক মুক্তো আদতে জৈব উপাদান, ঝিনুকের পেটের ভিতর তৈরি হয়। অন্যদিকে এই গুহার মুক্তোগুলি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন।

এই নতুন গুহাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাং কেভ’, যার অর্থ ‘বিজয়’। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং এর বিভিন্ন অংশে রয়েছে বিশালাকার স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইট। আর তারই সঙ্গে মিলেছে মুক্তোভরা গুহাটিও। গুহাটিকে গবেষণা ও সংরক্ষণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউনেস্কো স্বীকৃত ফং ন্যা–কে বাং জাতীয় উদ্যান

কীভাবে তৈরি হয়েছে গুহার মুক্তো?
গুহার ভেতরে খনিজসমৃদ্ধ জলের ফোঁটা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুদ্র বালিকণা বা অন্য কোনও সূক্ষ্ম কণার চারপাশে জমে। ফলে তৈরি হয় ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের স্তর। ধীরে ধীরে তা প্রায় নিখুঁত গোলাকার রূপ ধারণ করে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হাজার হাজার বছর সময় লেগে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গঠন পৃথিবীর প্রাচীন জলবায়ু, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন এবং কার্স্ট (Karst) ভূপ্রকৃতির বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। একই সঙ্গে এই আবিষ্কার ফং ন্যা–কে বাং অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক ও পর্যটন গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement